Jan 5, 2018

কসাই অতঃপর ভাগ্নের কাছে নাস্তানাবুদ

মেজকে আনতে চিটাগাং এয়ারপোর্টে গিয়েছিলাম। মোবাইলে ব্যালেন্স ছিল না, তাই রিচার্জ কর্নারে গেলাম। ওরা বলল, যাই রিচার্জ করবেন, দশ টাকা বেশি লাগবে। আমি টাস্কিত, ভূলে গিয়েছিলাম এটা মগের মুল্লুক না হাসিনার মুল্লুক। আরে ব্যাটা, ৫০ টাকার নিচে রিচার্জ করলে সবাই ১ টাকা বেশি নেয়, তোরা ২ টাকা বেশি নে, নাহয় ৩ টাকা নে। তাই বলে ৫ টাকা, ৮ টাকা নয়- একেবারে ১০ টাকা!  😕




আরে কসাই! বিদেশ থেকে যারা আসে, যদি জান্‌তি ওরা কিভাবে, কত পরিশ্রম করে দেশে রেমিটেন্স পাঠায়, ঠুক্‌ করে স্যালুট দিতি আর ২ টাকা কম রাখ্‌তি।

দেশের অন্য স্থানে যে জিনিস ২০ টাকা, এখানের দোকানগুলোতে সেটা নেয় ৬০ টাকা। আর উপরে(যেখান থেকে বিমান দেখা যায়) নেয় ১২০ টাকা। এখানে যারা আসে সবাই দুবাইওয়ালা কিংবা তাদের ১৪ গোষ্ঠী, তাই ওরা ধরে ধরে জবাই করা হালাল মনে করে।



তো সাথে ছিল, আমার সেই ভাগ্নে। ইবলিশটা বায়না ধরলো মেজমামাকে দেখবে। তারে যতই বুঝায়, তোমার মেজমামা আসতে আরো আধঘন্টা দেরী আপাততঃ বড়মামাকে দেখ! সে বলে, মেজমামাকে দেখবে। আমি বলি, এয়ারপোর্ট দেখ; সে নাছোড়বান্দা, অন্য কিছুই দেখবে না, খালি মেজমামাকেই দেখবে। তো অনেক গড়িমসি করে রাজী হলো, যে বিমানে মেজমামা আসবে, সেটা দেখবে। কী আর করি, উপরে নিয়ে গেলাম। ভাগ্যের লিখন, তখন একটা বিমান টেক-অফ করতেছিল। সে তা দেখে কোথায় যে উল্লসিত হবে তা না, কান্না জুড়ে দিল আর জাপানী ভাষায় চিৎকার করতে করতে আমাকে থাপড়াতে লাগল। অনেক কষ্টে বুঝিয়ে শুনিয়ে কান্না থামালাম আর কারণ জিজ্ঞাতে বলল, ‘মেজমামা তো ঊড়াল দিয়ে চলে গেল’! তাকে বুঝালাম, তোমার মেজমামা তো বিদেশ থেকে আসবে, এই বিমানে তো... ওই পিচ্চিগুলো দেখছ না, ওদের মামা চলে গেছে যে, তোমার মামা না।



আমার কথা কানে গেছে কিনা জানি না, সে দেখি একটা স্টলের দিকে তাকিয়ে আছে। তারপর বায়না ধরল, ‘মামা, মামা... ওই ছোট্ট গাড়িটা দেখছ না, ওটা নেব।’ আমি বললাম, ‘আরে তুমি এই গাড়ি নেবে কেন, তোমার জন্য মেজমামা বিদেশ থেকে কত সুন্দর সুন্দর খেলনা আনবে!’ সে বলে কি, মেজমামার খেলনা নেবে না, এই খেলনা গাড়িটাই নেবে। আমি কসাইদের হাত থেকে বাঁচার জন্য বললাম, ‘দূর ওটা তো অনেক ছোট, তোমাকে ওই বড় মার্কেটে নিয়ে গিয়ে অনেক বড় বড় খেলনা গাড়ি কিনে দেব’। ভাগ্নে কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল, ‘আমি বড় গাড়ি নেব না, ওই ছোট গাড়িটা নেব।’



আমি বেকায়দায় পড়ে বললাম, ‘আরে দেখ না, ওটা তো কালো, ওই বড় মার্কেটে লাল, হলুদ, নীল, সোনালী কত সুন্দর সুন্দর গাড়ি আছে, সেখান থেকে কিনে দেব।’ সে বলে কি, বলে ‘আমি কালো গাড়িটাই নেব।’ আমার অবস্থা তো বারোটা বাজার সময় হল। তাকে আবার বুঝানোর চেষ্টা করলাম, ‘আরে মামা, দেখ না... এটা হল পঁচা, তুমি একজন গুডবয়, তুমি পঁচা খেলনা নেবে কেন? তুমি যেমন গ্রেট তাই গাড়িও নেবে গ্রেট, কেমন!’

এবার ভাগ্নে দেখি অনেক্ষণ চুপ করে আছে। এদিক-ওদিক তাকাচ্ছে, তার মত পিচ্চিদের সাথে খেলতেছে। আমি মনে মনে শুকরিয়া আদায় করলাম, যাক বাঁচা গেল মনে হয়। অনেক্ষণ পর সে আমাকে খুঁজতে লাগলো, খুঁজে পেয়ে আমার কোলে ওঠে কান্না কান্না স্বরে বলতে লাগলো, ‘মামা, মামা, আমি ওই পঁচা গাড়িটা নেব!’

আমি বলি কি, ‘মামারে তুই কাঁদস কেন, যা তুই গাড়ি নে, আমিই কাঁদি।

*****************************************************

No comments:

Post a Comment

Agree With You, Excellent, Well Done, Go Ahead.

Featured Post

কুরবানিঃ ঘরে ঘরে আমিষের ভান্ডার।

  ইসলামের কি মহান সৌন্দর্য্য! আজ ধনী-গরীব নির্বিশেষে সবার ঘরে ঘরে গোশত আর আমিষের উপচে পড়া ভান্ডার। কুরবানির এই একটি দিন পৃথিবীর সব হিসাব-নিক...