আলেমদের মধ্যে মতভেদ সেই সাহাবীদের যুগ থেকেই চলে আসছে। ফরয-ওয়াজিব নিয়ে কোন এখতেলাফ নেই। যা এখতেলাফ সুন্নাত আর নফল নিয়ে। কেউ বলে মুস্তাহাব কেউ বলে বিদআত। যেমন মাজারে যাওয়া। (এখানে মাজারে যাওয়া বলতে সেখানে গিয়ে সিজদা মারা, নাচ-গান করা, মাদক সেবন করা, কবরবাসী থেকে কিছু চাওয়া ইত্যাদি বুঝানো হয়েছে; মাজার জিয়ারত করে কবরবাসীদের জন্য দোয়া করা নয়।)
এখন চিন্তা করতে হবে, মাজারে না গেলে কোন গোনাহ নেই। তবে একপক্ষের মতে সওয়াব আছে।
নোট দ্যাটঃ একপক্ষ বলেছে সওয়াব আছে, না গেলে গোনাহ নেই। আরেকপক্ষ বলতেছে, এটা নিকৃষ্টতম বিদআত। এখন আমরা কি করবো? বিবেক বলেঃ যখন না গেলে গোনাহ নেই, গেলে বিদআত হবার সম্ভাবনা, তাই না যাওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ। পরকালে বিচারের দিন, যদি প্রমাণ হয় যে, এটা বিদআত নয়, তাহলে তো সবাই বেঁচে যাবো। তবে মাজারপক্ষীয়রা আমাদের থেকে বেশি সওয়াবের ভাগীদার হবেন। কিন্তু... ...
কিন্তু যদি, মাজারে যাওয়া বিদআত হয়, তাহলে অন্যরা বেঁচে যাবেন। কিন্তু মাজারপন্থীদের কি দশা হবে, ভেবে দেখেছেন! ভাবতে না পারলে নীচের ২টি হাদিস দেখুনঃ
(এক)
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নিঃসন্দেহে আমার উম্মাতের ওপর এমন একটি সময় আসবে যেমন বনী ইসরাঈলের ওপর এসেছিল। যেমন এক পায়ের জুতা অপর পায়ের জুতার ঠিক সমান হয়। এমনকি বনী ইসরাঈলের মধ্যে যদি কেউ তার মায়ের সাথে প্রকাশ্যে কুকর্ম করে থাকে, তাহলে আমার উম্মাতের মধ্যেও এমন লোক হবে যারা অনুরূপ কাজ করবে। আর বনী ইসরাঈল ৭২ ফিরক্বায় (দলে) বিভক্ত হয়ে গিয়েছিল। আমার উম্মাত বিভক্ত হবে ৭৩ ফিরক্বায়। এদের মধ্যে একটি ব্যতীত সব দলই জাহান্নামে যাবে। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রসূল! জান্নাতী দল কারা? উত্তরে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, যার ওপর আমি ও আমার সাহাবীগণ প্রতিষ্ঠিত আছি, যারা তার উপর থাকবে। (তিরমিযী)[1]
গ্রন্থঃ মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
অধ্যায়ঃ পর্ব-১ঃ ঈমান (বিশ্বাস) (كتاب الإيمان)
হাদিস নম্বরঃ ১৭১
৫. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - কিতাব ও সুন্নাহকে সুদৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা
[1] প্রথম অংশটুকু ব্যতীত য‘ঈফ : তিরমিযী ২৬৪১, সহীহুল জামি‘ ৫৩৪৩। কারণ এর সানাদে ‘‘‘আবদুর রহমান ইবনু যিয়াদ আল আফরীফী’’ যিনি দুর্বল রাবী। হাদিসের মানঃ সহিহ/যঈফ [মিশ্রিত]
~~~~~
(দুই)
আহমাদ ও আবূ দাঊদে মু‘আবিয়াহ্ (রাঃ)হতে (কিছু পার্থক্যের সাথে) বর্ণনা করেন যে, ৭২ দল জাহান্নামে যাবে। আর একটি দল জান্নাতে যাবে। আর সে দলটি হচ্ছে জামা‘আত। আর আমার উম্মাতের মধ্যে কয়েকটি দলের উদ্ভব হবে যাদের শরীরে এমন কুপ্রবৃত্তি (বিদ্‘আত) ছড়াবে যেমনভাবে জলাতংক রোগ রোগীর সমগ্র শরীরে সঞ্চারণ করে। তার কোন শিরা-উপশিরা বাকি থাকে না, যাতে তা সঞ্চার করে না।[2]
#সূত্রঃ
গ্রন্থঃ মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
অধ্যায়ঃ পর্ব-১ঃ ঈমান (বিশ্বাস) (كتاب الإيمان)
হাদিস নম্বরঃ ১৭২
৫. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - কিতাব ও সুন্নাহকে সুদৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা
[2] হাসান : আহমাদ ১৬৪৯০, আবূ দাঊদ ৪৫৯৭, সহীহুত্ তারগীব ৫১।
হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
(((দুই নাম্বার হাদিসের ব্যাখ্যাঃ)))
হাদীসে প্রবৃত্তি তথা বিদ্‘আতকে জলাতংক রোগের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে, অর্থাৎ- জলাতংক রোগ প্রথমত কুকুরের হয়ে থাকে। অতঃপর সেই কুকুর যাকেই কামড় দেয় তাকেই ঐ রোগে আক্রান্ত করে এবং রোগীর শিরা উপশিরায় তা প্রবেশে মৃত্যু ডেকে নিয়ে আসে। অনুরূপ প্রবৃত্তির অনুসারী যখন বিদ্‘আতী কার্যক্রম শুরু করে এবং তা অন্যের নিকট পেশ করে তখন সেই ব্যক্তিও তার এই ছোবলে পড়ে বিদ্‘আতী হয়ে যায়, যার পরিণাম হলো জাহান্নাম।
তাই হাদীসে সতর্কবাণী করা হয়েছে বিদ্‘আতীদের সংস্পর্শে না যাওয়ার জন্য।
No comments:
Post a Comment
Agree With You, Excellent, Well Done, Go Ahead.