Jun 7, 2019

শাওয়াল মাসের ৬ রোযা

এ মাসের (এপ্রিল'২০২৫) ০৯ থেকে ১৪ তারিখ ৬টি রোযা রাখুন। তাতে আপনি ৩টি মরতবা হাসিল করবেন, ইনশাাল্লাহ। আল্লাহপাক চাহেন তো আপনাকে সবগুলোর সওয়াব একসাথে দান করবেন।  

১। শাওয়াল মাসের ৬টি রোযা আদায় হবেঃ

"রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 


مَنْ صَامَ رَمَضَانَ ثُمَّ أَتْبَعَهُ سِتًّا مِنْ شَوَّالٍ كَانَ كَصِيَامِ الدَّهْرِ
 
‘যে ব্যক্তি রমযান মাসে ফরয সিয়াম পালন করল, অতঃপর শাওয়াল মাসেও আরো ৬ দিন সওম পালন করল সে ব্যক্তি যেন সারা বছর ধরে রোযা রাখল।’’ [সহীহ মুসলিম : হা/১১৬৪]


প্রতি সপ্তাহের সোমবার ও বৃহস্পতিবারের দুইটি সুন্নাত রোযা আদায় হবেঃ

সোমবার ও বৃহস্পতিবার এই দুইদিন ‘কেরামান কাতেবীন’ অর্থাৎ, সম্মানিত আমল লেখক ফেরেশতারা আল্লাহর নিকট বান্দার আমল পেশ করেন। এই হাদীসটি আবু হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু আ’নহু থেকে বর্ণিত হয়েছে। রাসুলু্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
সোমবার ও বৃহস্পতিবার আল্লাহর নিকট বান্দার আমল পেশ করা হয়।। তাই আমি পছন্দ করি যে, রোযা থাকা অবস্থায় যেন আমার আমলনামা (আল্লাহর) কাছে পেশ করা হোক।” [সুনানে তিরমিযী হা/৭৪৭] শায়খ আলবানী রাহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন, [সহীহ আত-তারগীব হা/১০২৭]

 প্রতি আরবি মাসের আইয়ামে বীযের ৩টি রোযা আদায়ের সওয়াবও পাবেন, ইনশাআল্লাহঃ
"হযরত আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু আ’নহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার প্রিয় বন্ধু (রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে এমন তিনটি কাজের অসিয়ত করেছেন, যা আমি যতদিন বেঁচে থাকব, কখনোই ত্যাগ করব না। সেগুলো হচ্ছে, প্রতি মাসে তিনটি করে রোযা (আইয়ামে বীজ-এর তিন দিন) পালন করা, সালাতুদ দোহার নামায পড়া এবং বিতির না পড়ে ঘুমাতে না যাওয়া।” [সহীহ মুসলিম হা/৭২২, আবু দাউদ হা/১৪৩৩, আহমাদ হা/২৬৯৩৫]


আল্লাহপাক আমাদের নেক আমলের উসিলায় দুনিয়ায়, বরযক জীবন এবং আখিরাতে কল্যাণ দান করুন, আমীন।

Jun 2, 2019

মাজারে মাজারে ঘুরে শবে ক্বদর তালাশ

এতদিন মসজিদ খাঁ খাঁ করতেছিল, আজ আবার পরিপূর্ণ হবে। মানুষের ঢল নামবে।



আচ্ছা কোন হাদীসে কি বলা হয়েছে, আপনি রোযা সব রাখুন বা না রাখুন, সব ফরয নামায পড়ুন কিংবা না পড়ুন, ক্বদরের রাতে ইবাদত করলে, আপনি শবে ক্বদর পেয়ে যাবেন! আপনাকে মাফ করে দেওয়া হবে!


হাদীসে কী আছে দেখুনঃ
1/ "মূসা (রহঃ), আবূ সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবূ সায়ীদ খুদরী (রাঃ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললাম, আমাদের খেজুর বাগানে চলুন, (হাদীস সংক্রান্ত) আলাপ আলোচনা করব। তিনি বেরিয়ে আসলেন।

আবূ সালাম (রাঃ) বলেন, আমি তাকে বললাম, লাইলাতুল ক্বদর’ সম্পর্কে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা শুনেছেন, তা আমার কাছে বর্ণনা করুন।

তিনি{আবূ সায়ীদ খুদরী (রাঃ)} বললেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযানের প্রথম দশ দিন ই’তিকাফ করলেন। আমারও তাঁর সঙ্গে ই’তিকাফ করলাম। জিবরাঈল (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এসে বললেন, আপনি যা তালাশ করছেন, তা আপনার সামনে রয়েছে। এরপর তিনি মধ্যবর্তী দশ দিন ই’তিকাফ করলেন, আমরাও তাঁর সঙ্গে ই’তিকাফ করলাম। পুনরায় জিবরাঈল (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এসে বললেন, আপনি যা তালাশ করছেন, তা আপনার সামনে রয়েছে। এরপর রমযানের বিশ তারিখ সকালে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুতবা দিতে দাঁড়িয়ে বললেন, যারা আল্লাহর নবীর সঙ্গে ই’তিকাফ করেছেন, তারা যেন ফিরে আসেন (আবার ই’তিকাফ করেন) কেননা, আমাকে স্বপ্নে লাইলাতুল কদর’ অবগত করানো হয়েছে। তবে আমাকে তা (নির্ধারিত তারিখটি) ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। নিঃসন্দেহে তা শেষ দশ দিনের কোন এক বেজোড় তারিখে। স্বপ্নে দেখলাম যেন আমি কাদা ও পানির উপর সিজদা করছি।

তখন মসজিদের ছাদ খেজুরের ডাল দ্বারা নির্মিত ছিল। আমরা আকাশে কোন কিছুই (মেঘ) দেখিনি, এক খন্ড হালকা মেঘ আসল এবং আমাদের উপর (বৃষ্টি) বর্ষিত হল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন। এমন কি আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কপাল ও নাকের অগ্রভাগে পানি ও কাঁধার চিহ্ন দেখতে পেলাম। এভাবেই তাঁর স্বপ্ন সত্যে পরিণত হল।"
[হাদিসের মানঃ সহীহ, সহীহ বুখারী(ইফা), অধ্যায়ঃ ১০(আযান), হাদিস নাম্বারঃ ৭৭৬]





2/ "ইসমা‘ঈল (রহঃ), আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযানের মধ্যম দশকে ইতিকাফ করতেন। এক বছর এরূপ ইতিকাফ করেন, যখন একুশের রাত এল , যে রাতের সকালে তিনি তাঁর ইতিকাফ হতে বের হবেন, তিনি বললেনঃ যারা আমার সংগে ইতিকাফ করেছে তারা যেন শেষ দশক ইতিকাফ করে। আমাকে স্বপ্নে এই রাত (লাইলাতুল ক্বদর)দেখানো হয়েছিল। পরে আমাকে তা (সঠিক তারিখ)ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে। অবশ্য আমি স্বপ্নে দেখতে পেয়েছি যে , ঐ রাতের সকালে আমি কাদা-পানির মাঝে সিজদা করছি। তোমরা তা শেষ দশকে তালাশ কর এবং প্রত্যেক বেজোড় রাতে তালাশ কর। পরে এই রাতে আকাশ হতে বৃষ্টি বর্ষিত হল , মসজিদের ছাদ ছিল খেজুর পাতার ছাউনির। ফলে মসজিদে টপটপ করে বৃষ্টি পড়তে লাগল। একুশের রাতের সকালে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কপালে কাদা- পানির চিহ্ন আমার দু’চোখ দেখতে পায়।"
[হাদীসের মানঃ সহীহ, সহীহ বুখারি (ইফা), অধ্যায়ঃ ২৫(ই'তিকাফ), হাদিস নাম্বারঃ ১৯০০]

3/ "আলী ইবনুূু ‘আবদুল্লাহ (রহঃ), ‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত , তিনি বলেন , যখন রমযানের শেষ দশক আসত তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর লুঙ্গি কষে নিতেন (বেশী বেশী ইবাদতের প্রস্তুতি নিতেন) এবং রাত্রে জেগে থাকতেন ও পরিবার- পরিজনকে জাগিয়ে দিতেন।"
[হাদিসের মানঃ সহীহ, সহীহ বুখারি (ইফা), অধ্যায়ঃ ২৪ (তারাবীহর সালাত), হাদিস নাম্বারঃ ১৮৯৭]




4/ "ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ), আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কতিপয় সাহাবীকে স্বপ্নে দেখান হল যে, (রমযানের) শেষ সাত দিনের মধ্যে কদরের রাত রয়েছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি মনে করি যে, শেষের সাতদিন সম্পর্কে তোমাদের সকলের স্বপ্ন পরস্পর সামঞ্জস্যপূর্ণ। অতএব যে ব্যাক্তি তা অন্বেষণ করবে, সে যেন রমযানের শেষ সাতদিনের রাত গুলোতে তা অম্বেষণ করে।"
[হাদিসের মানঃ সহিহ,গ্রন্থঃ সহীহ মুসলিম(ইসলামিক ফাউন্ডেশন, অধ্যায়ঃ ১৪ সিয়াম (রোজা),হাদিস নাম্বারঃ ২৬৩২।]

জেনে রাখুন, শবে ক্বদর তাদের জন্যেই, যারা আল্লাহ্‌র সাথে কাউকে কোন প্রকার শরীক করে না, যারা পাঁচ ওয়াক্ত নামায সঠিকভাবে আদায় করে, যারা ফরয রোযা ত্যাগ করে না, হালাল-হারাম পরিপূর্ণভাবে মেইনেইন করে, মানুষের হক নষ্ট করে না।




আমরা হলাম মিঠা সুন্নি। এতেক্বাফ এবং রমযানের শেষ দশকের বেজোড় রাতসমূহে শবে ক্বদর তালাশের জন্য এতো অসংখ্য হাদীস থাকার পরও, আমরা ২৭ তারিখটা নির্দিষ্ট করে নিয়েছি। কেননা রাসুল(সাঃ)-এর শবে ক্বদর তালাশের পদ্ধতিটা(যেটা একমাত্র সঠিক পদ্ধতি) বাস্তবিক কঠিন। এবং এটাই যুক্তিযুক্ত। শবে ক্বদর নামক অতি বড় নেয়ামত এতো সহজে পাওয়াটাই তো অবৈজ্ঞানিক! রাসূল(সাঃ) বারবার বলেছেন, শবে ক্বদর উনাকে দেখিয়ে আবার ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে, আমাদের কাছে লুকিয়ে রাখা হয়েছে, তালাশ করে আমাদের খুঁজতে বলা হয়েছে। দুনিয়াতে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার জন্য আমরা কত কঠিন পরিশ্রমই না করি, তো আখিরাতের সাফল্যের জন্য এতো সহজ পথ আছে বলে, আমরা কিভাবে নির্বোধের মত ভাবতে পারি! ২৯ তারিখেও যে শবে ক্বদর হতে পারে তা কি আপনি বিশ্বাস করেন না! তাহলে তো রাসূল(সাঃ)-এর কথা মিথ্যা হয়ে যাবে(নাউজুবিল্লাহ)। অথচ ২৭ তারিখের পরেই আমরা নামায দোয়া একেবারে ছেড়ে দেই। আর কতগুলো নির্বোধ তো আছেই, শবে ক্বদর পালনের নামে মাজারে মাজারে ঘুরে শবে ক্বদর তালাশ করে।

বাট পরবর্তী ঈমামদের কিংবা আলেমদের ইজতেহাদ করে পাওয়া পদ্ধতি যে খুব সহজ। তো অতি সহজে বেহেশত পাওয়ার সহজ পদ্ধতি আমরা গ্রহণ না করে কি পারি!

May 7, 2019

নামাজ বর্জনকারীর বিধান

নামায মুসলমান এবং কাফেরদের মধ্যে পার্থক্যকারী।

আধুনিক কালে এমন অনেক মুসলিম রয়েছে, যারা সালাতের ব্যাপারে অমনোযোগী থাকে এবং তাকে বিনস্ট করে; এমনকি তাদের একটি অংশ অলসতা ও অবহেলা করে তা পুরোপুরি পরিত্যাগ করে। কিন্তু ইহা যে আমাদের উপর ফরয এবং তা আদায় না করলে পরিণামে ভয়ঙ্কর শাস্তি ভোগ করতে হবে। হাদিসের ভাষ্যমতে, হাশরের ময়দানে সর্বপ্রথম নামাযের হিসাব নেওয়া হবে।
     
পরিণামে কি ভয়ঙ্কর শাস্তি ভোগ করতে হবে, তা জানতে পড়ুন আল্লামা শায়খ মুহাম্মদ বিন সালেহ আল-উসাইমীন (রাহ.) এর খুবই মূল্যবান লেখা "নাময ত্যাগকারীর বিধান" বইটি।

বইটি যেকোন ইসলামী লাইব্রেরীতে পাওয়া যায়। আর যারা পিডিএফ এর ভক্ত তাদের জন্য নিচে ডাউনলিঙ্ক দেওয়া আছে। কিংবা ডাউনলিঙ্ক লেখাতে ক্লিক করুন।


                                                         >>> নামাজ পরিত্যাগকারীর বিধান <<<


Jun 8, 2018

হে নারী

নাটক-সিনেমাতে,
নারী অপহরণ খুব চমৎকার করে ফুটিয়ে তোলা হয়।
ডেয়ারিং ভাবে, অভিনব উপায়ে নারীকে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
আর ভয়ংকর উত্তেজিত ভাবে ধর্ষণ কিংবা ধর্ষণ চেষ্টার দৃশ্য চিত্রায়িত করা হয়।



নায়ক যেভাবে নারীটাকে বাঁচানোর জন্য মাটি ফুঁড়ে কিংবা বিশ তলা থেকে উড়ে আসে, একমাত্র সুপারম্যান বা স্পাইডারম্যান-এর দ্বারাই সেই কাজ সম্ভব।

বাস্তবে কোন সুপারম্যান বা স্পাইডারম্যান নেই।
তাই নারীদের কেউই বাঁচাতে আসে না।
তারা বাঁচতে পারে না।



বাস্তবে সব জায়গায় ধর্ষকের ছড়াছড়ি।
কেউ শিখার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে, আর কেউ করার জন্য।

তাই,
নারীরা শুধু ধর্ষিত হয়, হচ্ছে আর হবে।

বিশেষ ডায়লগঃ
‘ছেড়ে দে শয়তান! আমার দেহ পাবি, মন পাবি না’



ভাবি, ভাবি, শুধুই ভাবি ...
শয়তান তো দেহটাই চায়, মন দিয়ে কি করবে।
এইসব বস্তা পঁচা সিনেমা কি ধর্ষণকে আরো উৎসাহিত করছে না?

এইসব কুরুচিপূর্ণ দৃশ্য দেখে,
দর্শকরা আনন্দ পায়, হাততালি দেয় আর হাসে।
ধর্ষকরাও আনন্দ পায়, শিখে আর হাসে।

আর
অসহায় নারীরা ফাঁসে। 

Apr 6, 2018

ডিজিটাল বাংলাদেশ

আসল নেই কোথাও, চারিদিকে

ভন্ড, ভন্ড আর ভন্ড



দেশপ্রেম, জনকল্যাণ... থুঃ

সব ক্ষমতার দ্বন্দ্ব



সততা, ন্যায়বিচার... কোথাও নাই

বিচারপতি সব অন্ধ



ঘুষ দাও, চাঁদা দাও

নাহয় মিলবে দন্ড




দুর্নীতি-স্বজনপ্রীতি নো প্রবলেম

চোরের মায়ের বড় গন্ড



ঋণের বোঝা বইবে

গাধা সম জনতার স্কন্ধ



নৈতিক শিক্ষা নির্বাসনে

কি শিখবে আর ধনীর দুলাল নন্দ!



শিখছে তাই সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি

নাস্তিকতা আর যত সব মন্দ



একই জায়গায় মিটিং... ১৪৪ ধারা

তাই সমাবেশ পন্ড



হরতাল, ধর্মঘট... যখন-তখন

গাড়ীর চাকা বন্ধ



তিলোত্তমা নগরীতে খুঁজে ফিরি

সৌন্দর্যের সুর আর ছন্দ



মিলে শুধু জঞ্জাল, শব্দ-দূষণ

আর কালো ধুঁয়া’র গন্ধ



ফকির, হকার, যানজট,

ডাস্টবিনের দুর্গন্ধ



লেক, নদী সব জবরদখল

রাজপথ তাই খানা-খন্দ



শিক্ষা, যোগাযোগ, অর্থনীতি  ......

সব লন্ডভন্ড



সিঙ্গাপুর! ডিজিটাল বাংলাদেশ!!

আঃ... শুনতে বেশ, লাগে না মন্দ। 

Mar 9, 2018

সুস্পষ্ট সতর্কবাণী (১)


তারা যদি সত্যান্বেষী হত, নিশ্চয় হিদায়াতের পথ পেয়ে যেত।

আশ্চর্য লাগে, নাস্তিক আর ইসলাম বিদ্বেষীরা কুর'আনে প্রচুর ভুল আবিষ্কার করে অথচ এই সহজ, স্পষ্ট আয়াতগুলো তাদের চোখে পড়ে না।

﴿ قَدۡ خَلَتۡ مِنۡ قَبۡلِكُمۡ سُنَنٌۙ فَسِيۡرُوۡا فِىۡ الۡاَرۡضِ فَانظُرُوۡا كَيۡفَ كَانَ عَاقِبَةُ الۡمُكَذِّبِيۡنَ﴾

তোমাদের আগে অনেক যুগ অতিক্রান্ত হয়েছে। পৃথিবীতে ঘোরাফেরা করে দেখে নাও যারা (আল্লাহর বিধান ও হিদায়াতকে) মিথ্যা বলেছে তাদের পরিণাম কি হয়েছে।


﴿ هٰذَا بَيَانٌ لِّلنَّاسِ وَهُدًى وَّمَوۡعِظَةٌ لِّلۡمُتَّقِيۡنَ ﴾

এটি মানব জাতির জন্য একটি সুস্পষ্ট সতর্কবাণী এবং যারা আল্লাহকে ভয় করে তাদের জন্য পথনির্দেশ ও উপদেশ।
[সূরা আলে ইমরানঃ ১৩৭-১৩৮]

Feb 2, 2018

হে আমার প্রিয় বোন

একজন ছেলে...


  • সর্বদা সাজগোজ করে চলতেছে।
  • পুরুষদের(!) জন্য যত ধরণের প্রসাধনী বের হয়েছে, সবই ব্যবহার করতেছে।
  • লেটেস্ট ফ্যাশনে -এ চলাফেরা করতেছে।
  • ঘন ঘন সেভ করতেছে।
  • কবি হবার চেষ্টা করতেছে।
  • চলনে-বলনে স্মার্টনেস দেখাচ্ছে।

তখন বুঝতে হবে, সে কোন মেয়েকে পটানোর চেষ্টা করতেছে। আর সে যদি প্রথম এসাইনমেন্টে সফল হয়...


  • ওই মেয়েটার সাথে সবসময় দেখা করবে।
  • এখানে-ওখানে বেড়াতে নিয়ে যাবে।
  • দামী দামী রেস্টুরেন্টে খাওয়াবে।
  • নাটক-সিনেমা দেখাবে।
  • মেলা কিংবা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নিয়ে যাবে।
  • বিভিন্ন উৎসব-পার্বণে মূল্যবান উপহার পাঠাবে।


আচ্ছা এবার ভাবুন তো, এতো সব খরচ- এতো আয়োজন, কী উদ্দেশ্য !


  • নির্মল বন্ধুত্ব !
  • অকৃত্রিম ভালবাসা!!
  • জীবন-সাথী নির্বাচন !!!

৫% ছেলের মনে হয়তো সৎ উদ্দেশ্য থাকে, কিন্তু বাকী ৯৫% !

নির্মম সত্য বলতে কি---

  • এদের সবার উদ্দেশ্য ফুর্তি করা।
  • মেয়েদের দেহ ভোগ করা।
  • জীবনটাকে উপভোগ করা।

কিছু মেয়ে আছে যারা সেই একই নোংরা উদ্দেশ্য নিয়ে ছেলেদের দিকে এগিয়ে যায়। কিন্তু বাকীরা ! ফাঁদে পড়ে। অথচ এই অনৈতিক সম্পর্ক মেয়েদেরই বেশি ক্ষতি করে। আমরা ভবিষ্যৎ জানি না। জানি না কার সাথে কার বিয়ে হবে। তাহলে কিভাবে আমরা অন্যের  স্বামী  বা  স্ত্রীর(ভবিষ্যতে হবে) সাথে ফষ্টিনষ্টি করি?


  • আমরা কি আল্লাহকে ভয় করি না !
  • ভয় কি করি না সেই কঠিন, কষ্টকর, কবর আযাবের !!
  • বিশ্বাস কি করি না, সেই ভয়ংকর প্রজ্বলিত দোজখের আগুন !!!
  • সেই পরকালীন অনন্তকালের ভয়াবহ শাস্তির কথা কি হৃদয়ে কাঁপন ধরায় না !!!!

হে আল্লাহ্‌ ! আমাদের বিবেকের দুয়ার খুলে দাও।

Jan 5, 2018

কসাই অতঃপর ভাগ্নের কাছে নাস্তানাবুদ

মেজকে আনতে চিটাগাং এয়ারপোর্টে গিয়েছিলাম। মোবাইলে ব্যালেন্স ছিল না, তাই রিচার্জ কর্নারে গেলাম। ওরা বলল, যাই রিচার্জ করবেন, দশ টাকা বেশি লাগবে। আমি টাস্কিত, ভূলে গিয়েছিলাম এটা মগের মুল্লুক না হাসিনার মুল্লুক। আরে ব্যাটা, ৫০ টাকার নিচে রিচার্জ করলে সবাই ১ টাকা বেশি নেয়, তোরা ২ টাকা বেশি নে, নাহয় ৩ টাকা নে। তাই বলে ৫ টাকা, ৮ টাকা নয়- একেবারে ১০ টাকা!  😕




আরে কসাই! বিদেশ থেকে যারা আসে, যদি জান্‌তি ওরা কিভাবে, কত পরিশ্রম করে দেশে রেমিটেন্স পাঠায়, ঠুক্‌ করে স্যালুট দিতি আর ২ টাকা কম রাখ্‌তি।

দেশের অন্য স্থানে যে জিনিস ২০ টাকা, এখানের দোকানগুলোতে সেটা নেয় ৬০ টাকা। আর উপরে(যেখান থেকে বিমান দেখা যায়) নেয় ১২০ টাকা। এখানে যারা আসে সবাই দুবাইওয়ালা কিংবা তাদের ১৪ গোষ্ঠী, তাই ওরা ধরে ধরে জবাই করা হালাল মনে করে।



তো সাথে ছিল, আমার সেই ভাগ্নে। ইবলিশটা বায়না ধরলো মেজমামাকে দেখবে। তারে যতই বুঝায়, তোমার মেজমামা আসতে আরো আধঘন্টা দেরী আপাততঃ বড়মামাকে দেখ! সে বলে, মেজমামাকে দেখবে। আমি বলি, এয়ারপোর্ট দেখ; সে নাছোড়বান্দা, অন্য কিছুই দেখবে না, খালি মেজমামাকেই দেখবে। তো অনেক গড়িমসি করে রাজী হলো, যে বিমানে মেজমামা আসবে, সেটা দেখবে। কী আর করি, উপরে নিয়ে গেলাম। ভাগ্যের লিখন, তখন একটা বিমান টেক-অফ করতেছিল। সে তা দেখে কোথায় যে উল্লসিত হবে তা না, কান্না জুড়ে দিল আর জাপানী ভাষায় চিৎকার করতে করতে আমাকে থাপড়াতে লাগল। অনেক কষ্টে বুঝিয়ে শুনিয়ে কান্না থামালাম আর কারণ জিজ্ঞাতে বলল, ‘মেজমামা তো ঊড়াল দিয়ে চলে গেল’! তাকে বুঝালাম, তোমার মেজমামা তো বিদেশ থেকে আসবে, এই বিমানে তো... ওই পিচ্চিগুলো দেখছ না, ওদের মামা চলে গেছে যে, তোমার মামা না।



আমার কথা কানে গেছে কিনা জানি না, সে দেখি একটা স্টলের দিকে তাকিয়ে আছে। তারপর বায়না ধরল, ‘মামা, মামা... ওই ছোট্ট গাড়িটা দেখছ না, ওটা নেব।’ আমি বললাম, ‘আরে তুমি এই গাড়ি নেবে কেন, তোমার জন্য মেজমামা বিদেশ থেকে কত সুন্দর সুন্দর খেলনা আনবে!’ সে বলে কি, মেজমামার খেলনা নেবে না, এই খেলনা গাড়িটাই নেবে। আমি কসাইদের হাত থেকে বাঁচার জন্য বললাম, ‘দূর ওটা তো অনেক ছোট, তোমাকে ওই বড় মার্কেটে নিয়ে গিয়ে অনেক বড় বড় খেলনা গাড়ি কিনে দেব’। ভাগ্নে কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল, ‘আমি বড় গাড়ি নেব না, ওই ছোট গাড়িটা নেব।’



আমি বেকায়দায় পড়ে বললাম, ‘আরে দেখ না, ওটা তো কালো, ওই বড় মার্কেটে লাল, হলুদ, নীল, সোনালী কত সুন্দর সুন্দর গাড়ি আছে, সেখান থেকে কিনে দেব।’ সে বলে কি, বলে ‘আমি কালো গাড়িটাই নেব।’ আমার অবস্থা তো বারোটা বাজার সময় হল। তাকে আবার বুঝানোর চেষ্টা করলাম, ‘আরে মামা, দেখ না... এটা হল পঁচা, তুমি একজন গুডবয়, তুমি পঁচা খেলনা নেবে কেন? তুমি যেমন গ্রেট তাই গাড়িও নেবে গ্রেট, কেমন!’

এবার ভাগ্নে দেখি অনেক্ষণ চুপ করে আছে। এদিক-ওদিক তাকাচ্ছে, তার মত পিচ্চিদের সাথে খেলতেছে। আমি মনে মনে শুকরিয়া আদায় করলাম, যাক বাঁচা গেল মনে হয়। অনেক্ষণ পর সে আমাকে খুঁজতে লাগলো, খুঁজে পেয়ে আমার কোলে ওঠে কান্না কান্না স্বরে বলতে লাগলো, ‘মামা, মামা, আমি ওই পঁচা গাড়িটা নেব!’

আমি বলি কি, ‘মামারে তুই কাঁদস কেন, যা তুই গাড়ি নে, আমিই কাঁদি।

*****************************************************

Dec 8, 2017

শিশুর মায়াজাল

অনেক লোক এখন ঝামেলা মনে করা সন্তান নিতে চায় না, আগে ভাগেই জন্মনিয়ন্ত্রণ করে। সন্তান আসার পরও অনেকে গর্ভপাত করে সন্তান নষ্ট করে। অনেকে অভাবের তাড়নায় খাওয়াতে পারবে না মনে করে অধিক সন্তান নেয় না কিংবা বর্তমান আধুনিকতার মায়াজালে ও পাশ্চাত্য সংস্কৃতির প্রচারে বিভ্রান্ত হয়। তারা একবারও ভাবে না, সন্তান দেবার মালিক যেমন আল্লাহ্‌ তেমনি তার রিযিকের ব্যবস্থাকারীও মহান আল্লাহ্‌। তারা একবারও ভাবে না এই সন্তান তাদের ইহকাল-পরকাল দু'জাহানের মুক্তির কারণ হতে পারে। এখানে উল্লেখ্য যে, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার বাবা-মায়ের ১৩ তম সন্তান ছিলেন।




আমার দুই বছরের ভাগ্নে চিপস খাওয়ার পাগল। যদিও এই ভেজালের যুগে বাজারের চিল্ড্রেন ফুডগুলো কিনতে ভয় লাগে, তারপরও বাচ্চার আব্দার রাখতে মাঝে মাঝে কিনে দেই। সেদিন যখন আমাদের বাসায় এলো, একটা মেরিডিয়ান চিপস কিনে দিলাম। খাওয়ার সুবিধার্থে একটা বাটিতে ঢেলে দিলাম। এইরকম খাওয়ার সময় 'মামাকে একটা দাও' বললে সে চিপস তোলে ছোট্ট হাত দিয়ে মুখে ঢুকিয়ে দেয়। কি করে ট্রাই করার জন্য এবার যখন ও সব খেয়ে শেষ করে ফেলল, তখন বললাম, 'মামাকে একটা দাও'। ভেবেছিলাম সে হাত নেড়ে নাই বলবে। কিন্তু কি করলো জানেন! সে মুখে যে পেস্টটুকু অবশেষ ছিল তা হাত দিয়ে বের করে আমার মুখে দিল। এই অবুঝ শিশুটার ভালোবাসা দেখে আমার মনটা আনচান করে উঠল। চোখে জল এসে গেল।

একটা দুই বছরের বাচ্চা আমাকে বুঝাল, মায়া কাকে বলে! আমাকে শিখাল, ভালোবাসা কী! চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখাল, রক্তের বন্ধন কি রকম হতে পারে!

ওহে মা ও বাবারা, যারা নিজেরা নিজেদের সন্তানকে পৃথিবীতে আসতে দিচ্ছেন না বা হত্যা করতেছেন, চিন্তা করুন একটা বাচ্চা যদি তার মামার জন্য এতো ভালোবাসা লুকিয়ে রাখে, সে মা-বাবার জন্য কি জমিয়ে রেখেছে!

নিজেদের বাচ্চাকে হত্যা করার  আগে একবার ভেবে দেখুন! প্লিজ ?

প্রিয় ভাই ও বোনেরা, যাদের বাচ্চা আছে তাদের জন্য একটা চমৎকার ই-বুক উপহার দিলাম ... 

ইচ্ছে হলে ডাউনলোড করে নিতে পারেন। সংগ্রহে রাখার মতো একটি মূল্যবান বই ... ...
                                     
                                          "সন্তান-প্রতিপালন

Nov 10, 2017

নারীর অধিকার কিংবা সমাধিকার

নারীবাদী আর নাস্তিকরা নারীর অধিকার কিংবা সমাধিকার নিয়ে যতোই চিল্লাফাল্লা করুক, মোহরানা নিয়ে কোন উচ্চবাচ্য করে না। কেন? সেটা শুধু ইসলামী আইনের অন্তর্ভুক্ত বলেই কি? অথচ এই একটি অধিকার রক্ষার্থে যদি আন্দোলন হতো, তাহলে নারীরা নিঃসন্দেহে উত্তম নিরাপত্তা আর মর্যাদার অধিকারী হতো।




এবার একটা উল্টো প্রশ্ন করি ...
আচ্ছা নারীবাদী আর নাস্তিকরা দেনমোহর তোলে দেবার জন্য কোন হাউ-কাউ করে না কেন? কিংবা নারীকেও দেনমোহর দিতে হবে, এই দাবী করে না কেন?

কেননা সমাধিকারের যুক্তিতে বলা যায় ...

  • বিয়ে যেমন পুরুষ করে, নারীও করে।
  • সংসারটা যেমন পুরুষের, তেমনি নারীরও।
  • পুরুষ যেমন যৌনচাহিদা মেটায়, নারীও মেটায়।
  • সন্তানগুলো যেমন পুরুষের, তেমনি নারীরও।

এইভাবে এক একটি পয়েন্ট নিয়ে জারজগুলাকে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিন।

Featured Post

কুরবানিঃ ঘরে ঘরে আমিষের ভান্ডার।

  ইসলামের কি মহান সৌন্দর্য্য! আজ ধনী-গরীব নির্বিশেষে সবার ঘরে ঘরে গোশত আর আমিষের উপচে পড়া ভান্ডার। কুরবানির এই একটি দিন পৃথিবীর সব হিসাব-নিক...