এতদিন মসজিদ খাঁ খাঁ করতেছিল, আজ আবার পরিপূর্ণ হবে। মানুষের ঢল নামবে।
আচ্ছা কোন হাদীসে কি বলা হয়েছে, আপনি রোযা সব রাখুন বা না রাখুন, সব ফরয নামায পড়ুন কিংবা না পড়ুন, ক্বদরের রাতে ইবাদত করলে, আপনি শবে ক্বদর পেয়ে যাবেন! আপনাকে মাফ করে দেওয়া হবে!
হাদীসে কী আছে দেখুনঃ
1/ "মূসা (রহঃ), আবূ সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবূ সায়ীদ খুদরী (রাঃ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললাম, আমাদের খেজুর বাগানে চলুন, (হাদীস সংক্রান্ত) আলাপ আলোচনা করব। তিনি বেরিয়ে আসলেন।
আবূ সালাম (রাঃ) বলেন, আমি তাকে বললাম, লাইলাতুল ক্বদর’ সম্পর্কে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা শুনেছেন, তা আমার কাছে বর্ণনা করুন।
তিনি{আবূ সায়ীদ খুদরী (রাঃ)} বললেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযানের প্রথম দশ দিন ই’তিকাফ করলেন। আমারও তাঁর সঙ্গে ই’তিকাফ করলাম। জিবরাঈল (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এসে বললেন, আপনি যা তালাশ করছেন, তা আপনার সামনে রয়েছে। এরপর তিনি মধ্যবর্তী দশ দিন ই’তিকাফ করলেন, আমরাও তাঁর সঙ্গে ই’তিকাফ করলাম। পুনরায় জিবরাঈল (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এসে বললেন, আপনি যা তালাশ করছেন, তা আপনার সামনে রয়েছে। এরপর রমযানের বিশ তারিখ সকালে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুতবা দিতে দাঁড়িয়ে বললেন, যারা আল্লাহর নবীর সঙ্গে ই’তিকাফ করেছেন, তারা যেন ফিরে আসেন (আবার ই’তিকাফ করেন) কেননা, আমাকে স্বপ্নে লাইলাতুল কদর’ অবগত করানো হয়েছে। তবে আমাকে তা (নির্ধারিত তারিখটি) ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। নিঃসন্দেহে তা শেষ দশ দিনের কোন এক বেজোড় তারিখে। স্বপ্নে দেখলাম যেন আমি কাদা ও পানির উপর সিজদা করছি।
তখন মসজিদের ছাদ খেজুরের ডাল দ্বারা নির্মিত ছিল। আমরা আকাশে কোন কিছুই (মেঘ) দেখিনি, এক খন্ড হালকা মেঘ আসল এবং আমাদের উপর (বৃষ্টি) বর্ষিত হল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন। এমন কি আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কপাল ও নাকের অগ্রভাগে পানি ও কাঁধার চিহ্ন দেখতে পেলাম। এভাবেই তাঁর স্বপ্ন সত্যে পরিণত হল।"
[হাদিসের মানঃ সহীহ, সহীহ বুখারী(ইফা), অধ্যায়ঃ ১০(আযান), হাদিস নাম্বারঃ ৭৭৬]
2/ "ইসমা‘ঈল (রহঃ), আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযানের মধ্যম দশকে ইতিকাফ করতেন। এক বছর এরূপ ইতিকাফ করেন, যখন একুশের রাত এল , যে রাতের সকালে তিনি তাঁর ইতিকাফ হতে বের হবেন, তিনি বললেনঃ যারা আমার সংগে ইতিকাফ করেছে তারা যেন শেষ দশক ইতিকাফ করে। আমাকে স্বপ্নে এই রাত (লাইলাতুল ক্বদর)দেখানো হয়েছিল। পরে আমাকে তা (সঠিক তারিখ)ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে। অবশ্য আমি স্বপ্নে দেখতে পেয়েছি যে , ঐ রাতের সকালে আমি কাদা-পানির মাঝে সিজদা করছি। তোমরা তা শেষ দশকে তালাশ কর এবং প্রত্যেক বেজোড় রাতে তালাশ কর। পরে এই রাতে আকাশ হতে বৃষ্টি বর্ষিত হল , মসজিদের ছাদ ছিল খেজুর পাতার ছাউনির। ফলে মসজিদে টপটপ করে বৃষ্টি পড়তে লাগল। একুশের রাতের সকালে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কপালে কাদা- পানির চিহ্ন আমার দু’চোখ দেখতে পায়।"
[হাদীসের মানঃ সহীহ, সহীহ বুখারি (ইফা), অধ্যায়ঃ ২৫(ই'তিকাফ), হাদিস নাম্বারঃ ১৯০০]
3/ "আলী ইবনুূু ‘আবদুল্লাহ (রহঃ), ‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত , তিনি বলেন , যখন রমযানের শেষ দশক আসত তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর লুঙ্গি কষে নিতেন (বেশী বেশী ইবাদতের প্রস্তুতি নিতেন) এবং রাত্রে জেগে থাকতেন ও পরিবার- পরিজনকে জাগিয়ে দিতেন।"
[হাদিসের মানঃ সহীহ, সহীহ বুখারি (ইফা), অধ্যায়ঃ ২৪ (তারাবীহর সালাত), হাদিস নাম্বারঃ ১৮৯৭]
4/ "ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ), আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কতিপয় সাহাবীকে স্বপ্নে দেখান হল যে, (রমযানের) শেষ সাত দিনের মধ্যে কদরের রাত রয়েছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি মনে করি যে, শেষের সাতদিন সম্পর্কে তোমাদের সকলের স্বপ্ন পরস্পর সামঞ্জস্যপূর্ণ। অতএব যে ব্যাক্তি তা অন্বেষণ করবে, সে যেন রমযানের শেষ সাতদিনের রাত গুলোতে তা অম্বেষণ করে।"
[হাদিসের মানঃ সহিহ,গ্রন্থঃ সহীহ মুসলিম(ইসলামিক ফাউন্ডেশন, অধ্যায়ঃ ১৪ সিয়াম (রোজা),হাদিস নাম্বারঃ ২৬৩২।]
জেনে রাখুন, শবে ক্বদর তাদের জন্যেই, যারা আল্লাহ্র সাথে কাউকে কোন প্রকার শরীক করে না, যারা পাঁচ ওয়াক্ত নামায সঠিকভাবে আদায় করে, যারা ফরয রোযা ত্যাগ করে না, হালাল-হারাম পরিপূর্ণভাবে মেইনেইন করে, মানুষের হক নষ্ট করে না।

আমরা হলাম মিঠা সুন্নি। এতেক্বাফ এবং রমযানের শেষ দশকের বেজোড় রাতসমূহে শবে ক্বদর তালাশের জন্য এতো অসংখ্য হাদীস থাকার পরও, আমরা ২৭ তারিখটা নির্দিষ্ট করে নিয়েছি। কেননা রাসুল(সাঃ)-এর শবে ক্বদর তালাশের পদ্ধতিটা(যেটা একমাত্র সঠিক পদ্ধতি) বাস্তবিক কঠিন। এবং এটাই যুক্তিযুক্ত। শবে ক্বদর নামক অতি বড় নেয়ামত এতো সহজে পাওয়াটাই তো অবৈজ্ঞানিক! রাসূল(সাঃ) বারবার বলেছেন, শবে ক্বদর উনাকে দেখিয়ে আবার ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে, আমাদের কাছে লুকিয়ে রাখা হয়েছে, তালাশ করে আমাদের খুঁজতে বলা হয়েছে। দুনিয়াতে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার জন্য আমরা কত কঠিন পরিশ্রমই না করি, তো আখিরাতের সাফল্যের জন্য এতো সহজ পথ আছে বলে, আমরা কিভাবে নির্বোধের মত ভাবতে পারি! ২৯ তারিখেও যে শবে ক্বদর হতে পারে তা কি আপনি বিশ্বাস করেন না! তাহলে তো রাসূল(সাঃ)-এর কথা মিথ্যা হয়ে যাবে(নাউজুবিল্লাহ)। অথচ ২৭ তারিখের পরেই আমরা নামায দোয়া একেবারে ছেড়ে দেই। আর কতগুলো নির্বোধ তো আছেই, শবে ক্বদর পালনের নামে মাজারে মাজারে ঘুরে শবে ক্বদর তালাশ করে।
বাট পরবর্তী ঈমামদের কিংবা আলেমদের ইজতেহাদ করে পাওয়া পদ্ধতি যে খুব সহজ। তো অতি সহজে বেহেশত পাওয়ার সহজ পদ্ধতি আমরা গ্রহণ না করে কি পারি!