#বিখ্যাত এক আলেমকে বেকায়দায় ফেলতে কিংবা জ্ঞান যাচাই করতে, এক বুদ্ধিমতি (!) মহিলা অনলাইনে প্রশ্ন করলেন,
'হুজুর, আমি যদি শীতকালে স্বামীর বিছানা আলাদা করে দিই, তাহলে কি আমার গোনাহ হবে?"
#উত্তরে শায়েখ মজা করে বললেন, "অবশ্যই গোনাহ্ হবে। শুধুমাত্র ঠান্ডার ভয়ে আপনি স্বামীর হক নষ্ট করতে পারেন না। আপনি ওনাকে অবশ্যই বিছানায় রাখবেন। বাট আসল কাজটি করবেন না, যাতে গোসল ফরজ হয়ে যায়। 😊 তবে ফজরের নামাজের পর যা মন চায় করতে পারেন, স্বর্গীয় প্রশান্তি থেকে স্বামী বেচারাকেও বঞ্চিত করবেন না।" 🙏
#দোজখের আগুন এই দুনিয়ার সবচেয়ে শীতলতম স্থানের চেয়েও ঠান্ডা। জাহান্নামীদের উপর আগুনের আযাব শুধু তীব্র তাপের মাধ্যমে দেয়া হবে তা শুধু নয়, প্রচন্ড ঠান্ডা দিয়েও তাদের ডান্ডা দেয়া হবে। এজন্যে নমরুদ কতৃক অগ্নিকুন্ডে নিক্ষিপ্ত হয়ে ইবরাহীম আলাহিস সালাম যখন আল্লাহ্র আশ্রয় চাইলেন; আল্লাহ্পাক আগুনকে অর্ডার করলেন ইব্রাহীমের জন্য যেন শীতল ও নিরাপদ হয়ে যায়। অর্থাৎ আগুনের তাপ যেন, শীতলতার সীমার নিচে চলে না যায়।
#পবিত্র কুরআনের ২১ সূরা, আল-আম্বিয়ার ৬৯ নং আল্লাহ্পাক বলেন,
قُلۡنَا یٰنَارُ كُوۡنِیۡ بَرۡدًا وَّ سَلٰمًا عَلٰۤی اِبۡرٰهِیۡمَ ﴿ۙ۶۹﴾
আমি (আল্লাহ্) বললামঃ
'হে আগুন! তুমি ইবরাহীমের জন্য শীতল ও নিরাপদ হয়ে যাও।' (((সূত্রঃ অধ্যাপক মুজিবুর রহমান)))
অনেকে মনে করেন, গোসল ফরজ হলে দেরি করলে পাপ হবে বা সে অবস্থায় মাটির উপর হাঁটলে মাটি অভিশাপ দিবে। হকপন্থী আলেমদের মতে, এ সকল কথা ভিত্তিহীন। তবে গোসল ফরজ হলে তা যথাসম্ভব দ্রুত সেরে নেয়া উত্তম।
#ফরজ গোসল কত দেরিতে করা যায়?
পবিত্রতা ঈমানের অঙ্গ। আর ইসলাম সবসময় পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন থাকতে উৎসাহিত করে। পরিচ্ছন্নতার সঙ্গে জীবনযাপনকারীদের আল্লাহ্তাআলা ভালোবাসেন। ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে অপবিত্রতা দুই প্রকার। মানসিক এবং শারীরিক। কুফর থেকে ইসলামে প্রবেশের মাধ্যমে মানসিক অপবিত্রতা দূর হয়। একইভাবে শারীরিক অপবিত্রতা থেকে পবিত্র হওয়ারও নির্ধারিত পদ্ধতি ইসলাম সুস্পষ্ট করে দিয়েছে। তবে ইসলাম শারীরিক অপবিত্রতাকে দুটি শ্রেণিতে ভাগ করেছে।
১. যে ধরনের অপবিত্রতা থেকে অজু করেই পবিত্র হওয়া যায়, গোসল আবশ্যক নয় এ ধরনের অপবিত্রতাকে নাজাসাতে খফিফাহ বলা হয়।
২. যে ধরনের অপবিত্রতা থেকে গোসল ছাড়া পবিত্র হওয়ার উপায় নেই, তাকে নাজাসাতে গালিজাহ বলে।
পুরুষ-নারীর এমন কিছু গোপন বিষয় আছে, যেসব কারণে অপবিত্র হলে গোসল না করা পর্যন্ত শরীর পবিত্র হয় না। এ ধরনের অপবিত্রতা থেকে পবিত্র হওয়ার জন্য গোসল করা ফরজ।
#প্রশ্ন হলো, ফরজ গোসল কি দেরি করে করা যায় নাকি সঙ্গে সঙ্গেই করে নিতে হয়?
১. ফরজ গোসল যথাসম্ভব দ্রুত করে নেওয়া মুস্তাহাব বা ভালো, (ওয়াজিব বা আবশ্যক নয়)।
২. ফরজ গোসল এত দেরি করে করা উচিত নয় যে, পরবর্তী ওয়াক্তের নামাজ কাজা হয়ে যায়। নামাজ কাজা করা নিঃসন্দেহে কবিরা গুনাহ। ফরজ গোসল করতে না পারার জন্য নামাজ কাজা করার অজুহাত শরিয়তে গ্রহণযোগ্য নয়।
৩. কিন্তু অনেক সময় ফরজ গোসল দেরি করেও করা যায়। সেক্ষেত্রে সুন্নাত হলো, ভালো করে অজু করে নেওয়া।
#দলিলঃ
'আম্মাজান হজরত আয়শা (রাদ্বিআল্লাহু তাআলা আনহুমা) বলেন, ‘রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের গোসল ফরজ হলে তিনি যদি পরে গোসল করতে চাইতেন, কিংবা কিছু খেতে অথবা ঘুমাতে চাইতেন, তাহলে নামাজের অজুর মত অজু করে নিতেন। (((সহিহ মুসলিম শরিফ, হাদিস নং ৩০৫)))।
~~~~~