Jan 3, 2025

অকৃতজ্ঞ

আজ গাজাবাসীরা যেমন আল্লাহর সাহায্যের পানে চেয়ে আছে, একদিন আমরা বাংলাদেশিরাও আকাশের পানে তাকিয়ে থাকতাম।

রহমানুর রহীম আমাদের রহমত করলেন। এই অসহায়দের দিকে ফিরে তাকালেন। এক ভয়ংকর ডাইনি রাক্ষসীর কবল থেকে এই জাতিকে উদ্ধার করলেন।


আল্লাহর শুকরিয়া আদায় না করে, এই নেয়ামত ভোগ না করে, এই সুযোগের সদ্ব্যবহার না করে,

এই জাতি করল কি?

নিজেরা নিজেরা মারামারি, হানাহানি, খুনোখুনি, ছিনতাই, ডাকাতি, চাঁদাবাজি শুরু করে দিল।

আমি আশংকা করছি, অতি শীঘ্রই এই জাতির উপর ফিলিস্তিনের চেয়েও মারাত্বক গজব নেমে আসবে। সবচেয়ে বেশি আযাবপ্রাপ্ত হবে ইসলামিক দলের লিডার এবং সাপোর্টাররা। (ইন্ডিয়ার হাবভাব আর বিশ্বের মোড়লদের নীলনকশা তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে)


আখেরি জামানার ভয়াবহ ফেতনা বা ফিতনা সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) ভবিষ্যতদ্বাণী করেছেন যে, সে সময় মুসলমানরা সংখ্যায় অনেক বেশি হওয়া সত্ত্বেও সমুদ্রের ফেনার মতো শক্তিহীন ও মূল্যহীন হবে। এর মূল কারণ হিসেবে দুনিয়াপ্রেম ও মৃত্যুভয়কে চিহ্নিত করা হয়েছে।
হজরত সাওবান (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
"অন্যান্য জাতিরা তোমাদের ওপর এভাবে ঝাঁপিয়ে পড়বে, যেমন ক্ষুধার্ত মানুষ খাবারের পাত্রে একে অপরকে ডাকে।"
সাহাবিরা জিজ্ঞাসা করলেন, "হে আল্লাহর রাসুল! সেদিন কি আমাদের সংখ্যা কম হওয়ার কারণে এমনটি হবে?"
তিনি বললেন, "না, বরং সেদিন তোমরা সংখ্যায় অনেক হবে। কিন্তু তোমরা সমুদ্রের ফেনার মতো (শক্তিহীন ও ভাসমান) হবে। আল্লাহ তোমাদের শত্রুদের অন্তর থেকে তোমাদের ভয় দূর করে দেবেন এবং তোমাদের অন্তরে 'আল-ওয়াহান' ঢুকিয়ে দেবেন।"
সাহাবিরা জিজ্ঞাসা করলেন, "হে আল্লাহর রাসুল! 'আল-ওয়াহান' কী?" তিনি বললেন, "দুনিয়ার ভালোবাসা এবং মৃত্যুকে ভয় করা।"
(সুনান আবূ দাউদ: ৪২৪৭)

আল্লাহ্‌র ক্রোধ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

 




Dec 16, 2024

শুনতে পাও কি আর্তনাদ!

গল্পটা অনেক আগের। যখন প্রথম আলোর যাত্রা শুরু হয়েছিল। বন্ধুসভায় লেখালেখি করতাম। এই প্রথম আলো ভারতের দালাল বুঝতে পেরে সরে না এলে কিংবা চেতনা বিজনেস ঠিকমত করতে পারলে আমিও হয়ত আজ 'সুমন্ত আসলাম', 'আরিফ জেবতিক', 'আসিফ মহিউদ্দীন'দের মত বিজ্ঞানমনস্ক লেখক হয়ে জার্মানী পাড়ি দিতাম। :-P

---------------

(আসুন গল্পটা পড়ি)


বাসা থেকে বেরিয়েই এক রিকশাচালক দেখে হাঁক দিলাম,

'এই যে, বিজয়মেলায় যাবে?'

- 'হ, যামু।'


দরদাম না করেই ওঠে বসলাম। শীর্ণ গায়ে ছেঁড়া গেঞ্জি, লুঙ্গীপরা রিকশাওয়ালা। ছোকরা ছেলে। এখনো ভালো করে চালাতে শেখেনি। ভয় হচ্ছে, এক্সিডেন্ট করে-টরে ফেলবে না তো! আবার মাঝেমাঝে পিছনেও তাকাচ্ছে দেখে ধমকে ওঠলাম,

'এই ছেলে, বারবার পিছনে তাকাচ্ছো কেন! সামনে দেখে সাবধানে চালাও।'

- 'ভাইজান, একখান কথা জিগাইবার চাই।'


'কি কথা?'

- 'এই বিজয়মেলাটা আসলে কী ভাইজান!'


'ওমা, তুমি জানো না! এটা ডিসেম্বর মাস, বিজয়ের মাস! প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম বিজয়ের আনন্দ ভাগাভাগি করে উপভোগ করতেই এই বিজয়মেলার আয়োজন। আজ ১৬ ডিসেম্বর, বিজয় দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনেই পাকিস্তানি হানাদারদের কবল থেকে আমাদের দেশ মুক্ত হয়েছিল। দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর এদেশ স্বাধীন হয়েছিল বলেই আমরা ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস পালন করি। আজ যে আমাদের মহামুক্তির আনন্দের দিন।'

- 'ভাইজান বেয়াদবি নিয়েন না। আমরা কি আসলেই মুক্তি পাইছি?'


ছেলেটার এই প্রশ্নে আমি ভ্যাবাচ্যাকা খেলাম। কি যে বলি বুঝতে পারছি না। আমার উত্তরের অপেক্ষা না করেই সে বলে চললো -

'... ভাইজান, সেইদিন যদি সত্যিই মুক্তি আইসতো, তাইলে শেখ মুজিব, জিয়া খুন হইলো ক্যান! হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধার ফাঁসি হইলো ক্যান! দেশে এতো খুন-খারাবি, নারী নির্যাতন, আন্দোলন, বিক্ষোভ, হরতাল, ধর্মঘট হয় ক্যান!'


'এসব কি বলছো তুমি?' মনে মনে ভাবি ছোকরাটা এসব আমাকে বলছে কেন?

- 'ভাইজান, আমার বাজানও যুদ্ধে গেছিল। এক পাও হারাইয়া, পঙ্গু হইয়া ঘরে বইসা রইছে। যে বড়ভাই ছোট মুদির দোকান দিয়া আমাগো সংসার চালাইতেছিল, তারে গতবছর সন্ত্রাসীরা পিটাইয়া মাইরা ফালাইছে- চাঁদার লাইগা। সংসারের জোয়াল কাঁধে নিয়া আমি অহন রিকশা চালাই।' 


এই বলে সে হুঁ হুঁ করে কেঁদে দিল। আমি কি বলবো, কি করবো, বুঝে উঠতে পারছিলাম না। ছেলেটি নোংরা গামছা দিয়ে চোখ মুছে বলে চললো -

- 'ভাইজান, বিজয়মেলায় যাইতে তো আমারও মন চায়, প্রাণ খুলে স্বাধীনতার বাতাসে উড়িতে দিল চায়, ক্যান যাইতাম পারি না!'


এই প্রশ্নের উত্তর তো আমি জানি না!

কে জানে?


নিজের লজ্জা ঢাকতে চুপিচুপি রিকশা থেকে নেমে যাই। অতি দ্রুত হারিয়ে যাই ভিড়ের ভিতর।


(শুনি এক আর্তনাদ - ১৬ ডিসেম্বর' ১৯৯৮ সংখ্যা)

Dec 15, 2024

বিদআত কি শিরক থেকেও ভয়ংকর অপরাধ?

আলেমদের মধ্যে মতভেদ সেই সাহাবীদের যুগ থেকেই চলে আসছে। ফরয-ওয়াজিব নিয়ে কোন এখতেলাফ নেই। যা এখতেলাফ সুন্নাত আর নফল নিয়ে। কেউ বলে মুস্তাহাব কেউ বলে বিদআত। যেমন মাজারে যাওয়া। (এখানে মাজারে যাওয়া বলতে সেখানে গিয়ে সিজদা মারা, নাচ-গান করা, মাদক সেবন করা, কবরবাসী থেকে কিছু চাওয়া ইত্যাদি বুঝানো হয়েছে; মাজার জিয়ারত করে কবরবাসীদের জন্য দোয়া করা নয়।)

এখন চিন্তা করতে হবে, মাজারে না গেলে কোন গোনাহ নেই। তবে একপক্ষের মতে সওয়াব আছে। 


নোট দ্যাটঃ একপক্ষ বলেছে সওয়াব আছে, না গেলে গোনাহ নেই। আরেকপক্ষ বলতেছে, এটা নিকৃষ্টতম বিদআত। এখন আমরা কি করবো? বিবেক বলেঃ যখন না গেলে গোনাহ নেই, গেলে বিদআত হবার সম্ভাবনা, তাই না যাওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ। পরকালে বিচারের দিন, যদি প্রমাণ হয় যে, এটা বিদআত নয়, তাহলে তো সবাই বেঁচে যাবো। তবে মাজারপক্ষীয়রা আমাদের থেকে বেশি সওয়াবের ভাগীদার হবেন। কিন্তু... ...

কিন্তু যদি, মাজারে যাওয়া বিদআত হয়, তাহলে অন্যরা বেঁচে যাবেন। কিন্তু মাজারপন্থীদের কি দশা হবে, ভেবে দেখেছেন! ভাবতে না পারলে নীচের ২টি হাদিস দেখুনঃ

(এক)
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নিঃসন্দেহে আমার উম্মাতের ওপর এমন একটি সময় আসবে যেমন বনী ইসরাঈলের ওপর এসেছিল। যেমন এক পায়ের জুতা অপর পায়ের জুতার ঠিক সমান হয়। এমনকি বনী ইসরাঈলের মধ্যে যদি কেউ তার মায়ের সাথে প্রকাশ্যে কুকর্ম করে থাকে, তাহলে আমার উম্মাতের মধ্যেও এমন লোক হবে যারা অনুরূপ কাজ করবে। আর বনী ইসরাঈল ৭২ ফিরক্বায় (দলে) বিভক্ত হয়ে গিয়েছিল। আমার উম্মাত বিভক্ত হবে ৭৩ ফিরক্বায়। এদের মধ্যে একটি ব্যতীত সব দলই জাহান্নামে যাবে। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রসূল! জান্নাতী দল কারা? উত্তরে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, যার ওপর আমি ও আমার সাহাবীগণ প্রতিষ্ঠিত আছি, যারা তার উপর থাকবে। (তিরমিযী)[1]

গ্রন্থঃ মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
অধ্যায়ঃ পর্ব-১ঃ ঈমান (বিশ্বাস) (كتاب الإيمان)
হাদিস নম্বরঃ ১৭১
৫. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - কিতাব ও সুন্নাহকে সুদৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা
[1] প্রথম অংশটুকু ব্যতীত য‘ঈফ : তিরমিযী ২৬৪১, সহীহুল জামি‘ ৫৩৪৩। কারণ এর সানাদে ‘‘‘আবদুর রহমান ইবনু যিয়াদ আল আফরীফী’’ যিনি দুর্বল রাবী। হাদিসের মানঃ সহিহ/যঈফ [মিশ্রিত]
~~~~~
(দুই)
আহমাদ ও আবূ দাঊদে মু‘আবিয়াহ্ (রাঃ)হতে (কিছু পার্থক্যের সাথে) বর্ণনা করেন যে, ৭২ দল জাহান্নামে যাবে। আর একটি দল জান্নাতে যাবে। আর সে দলটি হচ্ছে জামা‘আত। আর আমার উম্মাতের মধ্যে কয়েকটি দলের উদ্ভব হবে যাদের শরীরে এমন কুপ্রবৃত্তি (বিদ্‘আত) ছড়াবে যেমনভাবে জলাতংক রোগ রোগীর সমগ্র শরীরে সঞ্চারণ করে। তার কোন শিরা-উপশিরা বাকি থাকে না, যাতে তা সঞ্চার করে না।[2]

#সূত্রঃ
গ্রন্থঃ মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
অধ্যায়ঃ পর্ব-১ঃ ঈমান (বিশ্বাস) (كتاب الإيمان)
হাদিস নম্বরঃ ১৭২
৫. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - কিতাব ও সুন্নাহকে সুদৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা
[2] হাসান : আহমাদ ১৬৪৯০, আবূ দাঊদ ৪৫৯৭, সহীহুত্ তারগীব ৫১।
হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)

(((দুই নাম্বার হাদিসের ব্যাখ্যাঃ)))

হাদীসে প্রবৃত্তি তথা বিদ্‘আতকে জলাতংক রোগের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে, অর্থাৎ- জলাতংক রোগ প্রথমত কুকুরের হয়ে থাকে। অতঃপর সেই কুকুর যাকেই কামড় দেয় তাকেই ঐ রোগে আক্রান্ত করে এবং রোগীর শিরা উপশিরায় তা প্রবেশে মৃত্যু ডেকে নিয়ে আসে। অনুরূপ প্রবৃত্তির অনুসারী যখন বিদ্‘আতী কার্যক্রম শুরু করে এবং তা অন্যের নিকট পেশ করে তখন সেই ব্যক্তিও তার এই ছোবলে পড়ে বিদ্‘আতী হয়ে যায়, যার পরিণাম হলো জাহান্নাম।

তাই হাদীসে সতর্কবাণী করা হয়েছে বিদ্‘আতীদের সংস্পর্শে না যাওয়ার জন্য।

Dec 13, 2024

গোসল ফরজ হলেও দেরি করে গোসল করা যাবে

 #বিখ্যাত এক আলেমকে বেকায়দায় ফেলতে কিংবা জ্ঞান যাচাই করতে, এক বুদ্ধিমতি (!) মহিলা অনলাইনে প্রশ্ন করলেন, 

'হুজুর, আমি যদি শীতকালে স্বামীর বিছানা আলাদা করে দিই, তাহলে কি আমার গোনাহ হবে?"


#উত্তরে শায়েখ মজা করে বললেন, "অবশ্যই গোনাহ্‌ হবে। শুধুমাত্র ঠান্ডার ভয়ে আপনি স্বামীর হক নষ্ট করতে পারেন না। আপনি ওনাকে অবশ্যই বিছানায় রাখবেন। বাট আসল কাজটি করবেন না, যাতে গোসল ফরজ হয়ে যায়। 😊 তবে ফজরের নামাজের পর যা মন চায় করতে পারেন, স্বর্গীয় প্রশান্তি থেকে স্বামী বেচারাকেও বঞ্চিত করবেন না।" 🙏


#দোজখের আগুন এই দুনিয়ার সবচেয়ে শীতলতম স্থানের চেয়েও ঠান্ডা। জাহান্নামীদের উপর আগুনের আযাব শুধু তীব্র তাপের মাধ্যমে দেয়া হবে তা শুধু নয়, প্রচন্ড ঠান্ডা দিয়েও তাদের ডান্ডা দেয়া হবে। এজন্যে নমরুদ কতৃক অগ্নিকুন্ডে নিক্ষিপ্ত হয়ে ইবরাহীম আলাহিস সালাম যখন আল্লাহ্‌র আশ্রয় চাইলেন; আল্লাহ্‌পাক আগুনকে অর্ডার করলেন ইব্রাহীমের জন্য যেন শীতল ও নিরাপদ হয়ে যায়। অর্থাৎ আগুনের তাপ যেন, শীতলতার সীমার নিচে চলে না যায়।


#পবিত্র কুরআনের ২১ সূরা, আল-আম্বিয়ার ৬৯ নং আল্লাহ্‌পাক বলেন, 


قُلۡنَا یٰنَارُ كُوۡنِیۡ بَرۡدًا وَّ سَلٰمًا عَلٰۤی اِبۡرٰهِیۡمَ ﴿ۙ۶۹﴾


আমি (আল্লাহ্‌) বললামঃ 

'হে আগুন! তুমি ইবরাহীমের জন্য শীতল ও নিরাপদ হয়ে যাও।' (((সূত্রঃ অধ্যাপক মুজিবুর রহমান)))


অনেকে মনে করেন, গোসল ফরজ হলে দেরি করলে পাপ হবে বা সে অবস্থায় মাটির উপর হাঁটলে মাটি অভিশাপ দিবে। হকপন্থী আলেমদের মতে, এ সকল কথা ভিত্তিহীন। তবে গোসল ফরজ হলে তা যথাসম্ভব দ্রুত সেরে নেয়া উত্তম।


#ফরজ গোসল কত দেরিতে করা যায়?


পবিত্রতা ঈমানের অঙ্গ। আর ইসলাম সবসময় পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন থাকতে উৎসাহিত করে। পরিচ্ছন্নতার সঙ্গে জীবনযাপনকারীদের আল্লাহ্‌তাআলা ভালোবাসেন। ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে অপবিত্রতা দুই প্রকার। মানসিক এবং শারীরিক। কুফর থেকে ইসলামে প্রবেশের মাধ্যমে মানসিক অপবিত্রতা দূর হয়। একইভাবে শারীরিক অপবিত্রতা থেকে পবিত্র হওয়ারও নির্ধারিত পদ্ধতি ইসলাম সুস্পষ্ট করে দিয়েছে। তবে ইসলাম শারীরিক অপবিত্রতাকে দুটি শ্রেণিতে ভাগ করেছে।


১. যে ধরনের অপবিত্রতা থেকে অজু করেই পবিত্র হওয়া যায়, গোসল আবশ্যক নয় এ ধরনের অপবিত্রতাকে নাজাসাতে খফিফাহ বলা হয়।


২. যে ধরনের অপবিত্রতা থেকে গোসল ছাড়া পবিত্র হওয়ার উপায় নেই, তাকে নাজাসাতে গালিজাহ বলে।


পুরুষ-নারীর এমন কিছু গোপন বিষয় আছে, যেসব কারণে অপবিত্র হলে গোসল না করা পর্যন্ত শরীর পবিত্র হয় না। এ ধরনের অপবিত্রতা থেকে পবিত্র হওয়ার জন্য গোসল করা ফরজ।


#প্রশ্ন হলো, ফরজ গোসল কি দেরি করে করা যায় নাকি সঙ্গে সঙ্গেই করে নিতে হয়?


১. ফরজ গোসল যথাসম্ভব দ্রুত করে নেওয়া মুস্তাহাব বা ভালো, (ওয়াজিব বা আবশ্যক নয়)।


২. ফরজ গোসল এত দেরি করে করা উচিত নয় যে, পরবর্তী ওয়াক্তের নামাজ কাজা হয়ে যায়। নামাজ কাজা করা নিঃসন্দেহে কবিরা গুনাহ। ফরজ গোসল করতে না পারার জন্য নামাজ কাজা করার অজুহাত শরিয়তে গ্রহণযোগ্য নয়।


৩. কিন্তু অনেক সময় ফরজ গোসল দেরি করেও করা যায়। সেক্ষেত্রে সুন্নাত হলো, ভালো করে অজু করে নেওয়া। 


#দলিলঃ

'আম্মাজান হজরত আয়শা (রাদ্বিআল্লাহু তাআলা আনহুমা) বলেন, ‘রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের গোসল ফরজ হলে তিনি যদি পরে গোসল করতে চাইতেন, কিংবা কিছু খেতে অথবা ঘুমাতে চাইতেন, তাহলে নামাজের অজুর মত অজু করে নিতেন। (((সহিহ মুসলিম শরিফ, হাদিস নং ৩০৫)))।

~~~~~

জুমআ'র ফজিলত

 উম্মতে মুহাম্মদীর কিছু বিশেষ প্রাপ্তি রয়েছে, যা অন্যান্য নবীর উম্মতেরা পাননি। তন্মধ্যে একটি হলো জুমার দিন। হাদিস শরিফে এই দিনের অনেক ফজিলত বর্ণিত হয়েছে।  হযরত আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহুব তাআলা আনহুম) থেকে বর্ণিত নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, আমাদের পূর্ববর্তী উম্মতকে জুমার দিন সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা অজ্ঞ রেখেছেন। ইহুদিদের ফজিলতপূর্ণ দিবস ছিল শনিবার। খ্রিস্টানদের ছিল রোববার। অতঃপর আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে দুনিয়ায় পাঠালেন এবং জুমার দিনের ফজিলত দান করলেন। সিরিয়ালে শনি ও রোববারকে শুক্রবারের পরে রাখলেন। দুনিয়ার এই সিরিয়ালের মতো কেয়ামতের দিনও ইহুদি-খ্রিস্টানরা উম্মতে মুহাম্মদির পড়ে থাকবে। আমরা উম্মত হিসেবে সবার শেষে এলেও কেয়ামতের দিন সকল সৃষ্টির আগে থাকব। (মুসলিমঃ ১৪৭৩)

বিস্তারিত নিচে পড়ুনঃ

ধর্ম-জীবন

দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ ‌জুমার দিনে ‘সূরা কাহাফ’ তেলাওয়াতের ফজিলত

 অনলাইন ডেস্ক
দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ ‌জুমার দিনে ‘সূরা কাহাফ’ তেলাওয়াতের ফজিলত

উম্মতে মুহাম্মদির কিছু বিশেষ প্রাপ্তি রয়েছে, যা অন্যান্য নবীর উম্মতেরা পাননি। তন্মধ্যে একটি হলো জুমার দিন। হাদিস শরিফে এই দিনের অনেক ফজিলত বর্ণিত হয়েছে।  হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত নবীজি (সা.) বলেন, আমাদের পূর্ববর্তী উম্মতকে জুমার দিন সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা অজ্ঞ রেখেছেন। ইহুদিদের ফজিলতপূর্ণ দিবস ছিল শনিবার। খ্রিস্টানদের ছিল রোববার। অতঃপর আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে দুনিয়ায় পাঠালেন এবং জুমার দিনের ফজিলত দান করলেন। সিরিয়ালে শনি ও রোববারকে শুক্রবারের পরে রাখলেন। দুনিয়ার এই সিরিয়ালের মতো কেয়ামতের দিনও ইহুদি-খ্রিস্টানরা উম্মতে মুহাম্মদির পড়ে থাকবে। আমরা উম্মত হিসেবে সবার শেষে এলেও কেয়ামতের দিন সকল সৃষ্টির আগে থাকব। (মুসলিম : ১৪৭৩)

জুমার দিন দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ দিন হিসেবে গণ্য করা হয়। হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত নবীজি (সা.) বলেছেন, পৃথিবীর যতদিন সূর্য উদিত হবে তার মধ্যে শ্রেষ্ঠ দিন হলো শুক্রবার। এ দিনে আদমকে (আ.) সৃষ্টি করা হয়েছে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে। এ দিনেই তাঁকে জান্নাত থেকে বের করা হয়েছিল। সর্বশেষ কেয়ামত সংঘটিত হবে শুক্রবার দিনে। (মুসলিম : ৮৫৪)। জুমার দিনকে সপ্তাহের সেরা দিন হিসেবেও ঘোষণা করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, জুমার দিন দিবসসমূহের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং তা আল্লাহর নিকট অধিক সম্মানিত। (ইবনে মাজা : ১০৮৪)

জুমআর দিন মুসলিম উম্মাহর জন্য রয়েছে ফজিলতপূর্ণ অনেক আমল। এগুলো মধ্যে একটি আমল অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তা হচ্ছে জুমআর দিনে ‘সুরা কাহফ’ তেলাওয়াত করা। পবিত্র কুরআনুল কারিমের ১৫তম পারার ১৮নং সুরা এটি। যদি কেউ সম্পূর্ণ সুরাটি তেলাওয়াত করতে না পারে তবে সে যেন এ সুরার প্রথম এবং শেষ ১০ আয়াত তেলাওয়াত করে।

জুমার দিনে ‘সূরা কাহাফ’ তেলাওয়াতের ফজিলত
- যে ব্যক্তি জুমার দিন সূরা আল কাহাফ পড়বে, তার (ঈমানের) নূর এ জুমাহ হতে আগামী জুমাহ পর্যন্ত চমকাতে থাকবে। (মিশকাত ২১৭৫)।

- যে ব্যক্তি সূরা আল কাহাফ এর প্রথম দশটি আয়াত মুখস্থ করবে তাকে দাজ্জালের অনিষ্ট হতে নিরাপদ রাখা হবে। (মুসলিম) (মিশকাত)।


মৌমাছি নিয়ে কুরআনের বাণীকেই মেনে নিলো বিজ্ঞান

প্রতিদিন সকালে যে দোয়া পড়তেন বিশ্বনবি

দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ ‌`জুমার’ দিনে যা করবেন


 

- ‘যে ব্যক্তি সূরা কাহাফ পাঠ করবে, কিয়ামতের দিন তার জন্য এমন একটি নূর হবে, যা তার অবস্থানের জায়গা থেকে মক্কা পর্যন্ত আলোকিত করে দিবে। আর যে ব্যক্তি উহার শেষ দশটি আয়াত পাঠ করবে, তার জীবদ্দশায় দাজ্জাল বের হলেও সে তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।’ (সিলসিলায়ে সহীহা -২৬৫১)।

- যে ব্যক্তি জুমার রাত্রিতে সূরা কাহাফ পাঠ করবে, তার জন্য স্বীয় অবস্থানের জায়গা হতে পবিত্র মক্কা পর্যন্ত একটি নূর হবে।’ (সহীহ তারগীব ওয়াত্ তারহীব - ৭৩৬)।

- জুমার দিনে সূরা কাহফ পাঠ করিলে কিয়ামত দিবসে তার পায়ের নীচ থেকে আকাশের মেঘমালা পর্যন্ত নূর আলোকিত হবে এবং দুই জুমার মধ্যবর্তী গুনাহ মাফ হবে। (আত তারগীব ওয়াল তারহীব- ১/২৯৮)

- জনৈক ব্যক্তি সূরাহ আল কাহফ পড়ছিল। তখন লোকটি তাকিয়ে দেখতে পেল একখণ্ড মেঘ তাকে পরিবেষ্টন করে নিয়েছে। বারা ইবনু আযিব বর্ণনা করেছেন যে, লোকটি বিষয়টি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসালাম এর কাছে বললেন। তিনি তাকে উদ্দেশ্য করে বললেন, হে অমুক তুমি সূরাটি পড়তে থাক। কারণ এটি ছিল আল্লাহর রহমাত বা প্রশান্তি যা কোরআন তেলাওয়াতের কারণে বা কোরআন তেলাওয়াতের জন্য অবতীর্ণ হয়েছিল। (মুসলিম- ১৭৪২)।

অর্থাৎ এটা হলো আল্লাহ  তায়ালার পক্ষ থেকে ওই ‘সাকীনা’ বা প্রশান্তি যা কোরআন পাঠের সময় অবতীর্ণ হয়ে থাকে।

আল্লাহপাক, আমাদেরকে জুমআর দিনের গুরুত্ব বুজার তৌফিক দান করুন, আমীন।


Jul 25, 2019

নামাযের জামাত ধরার জন্য তাড়াহুড়ো করা কেন উচিত নয়?


অনেক ভাই নামাযের জামাত ধরার জন্য খুব তাড়াহুড়ো করে। ঠিকমত অযু করে না। মসজিদের ভিতরেই দৌঁড়াদৌঁড়ি করে অন্য মুসল্লীদের নামাযের ক্ষতি করে।
 
অথচ নামাযের জন্য অযু হল প্রথম শর্ত। আর অযু সঠিকভাবে না হলে নামাযও হবে না। অযুর ফরজ চারটিঃ 
  • মুখমন্ডল ধৌত করা,  
  • উভয় হাত কনুইসহ ধোঁয়া,  
  • মাথার এক-চতুর্থাংশ মাসেহ করা 
       এবং 
  • উভয় পা টাখনুসহ ধোয়া। 
এগুলো সঠিকভাবে আদায় করতে হবে। হাত-পা, মুখমন্ডলের নির্দিষ্ট স্থানে পানি পৌঁছাতে হবে। কোনো জায়গা শুকনো এমনকি কোন অঙ্গের লোম পরিমাণ শুকনা থেকে গেলেও অযু হবে না। তাই তাড়াহুড়া করে অযু না করা ভালো। জামাত শুরু হওয়ার সময় থাকলে অযু শেষে কালেমা শাহাদাত পড়া যেতে পারে। 

হাদিসে এসেছে,
 মহানবী(সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি অযু শেষে কালেমা শাহাদাত পাঠ করবে তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজা খুলে দেয়া হয়। সে ইচ্ছা করলে এর যে কোনো দরজা দিয়ে (জান্নাতে) প্রবেশ করতে পারবে। (মুসলিম শরিফ)

আর নামাযের আগে ৭টি ফরজ কাজ আছে যার কোন একটি তরক হলেও নামায হবে না। ফরজগুলো হলঃ
০১. শরীর পাক থাকতে হবে
০২. কাপড় পাক হতে হবে
০৩. নামাজের জায়গা পাক থাকতে হবে
০৪. সতর ঢাকতে হবে
০৫. কিবলামুখী হতে হবে
০৬. ওয়াক্ত মত নামাজ পড়তে হবে
এবং
০৭. নামাযের নিয়ত করতে হবে। শব্দ করে উচ্চারণ না করে মনে মনে সংকল্প করাই হল আসল নিয়ত। অর্থাৎ কোন ওয়াক্তের কত রাকাত নামায পড়তে দাঁড়িয়েছি, সেটার সম্বন্ধে সজ্ঞান থাকা।

তো ঐ সকল ভাইয়েরা কি পূর্ণ সওয়াবের আশায় দৌঁড়াদৌঁড়ি করেন নাকি ইমামের পরে ছুটে যাওয়া বাকী ২-১ রাকাত নামায পড়তে ভীষণ কষ্ট হয়, তার জন্য দৌঁড়াদৌঁড়ি করেন; আল্লাহ মালুম।
অথচ রাসূলে পাক(সা.) জামাতের ২-১ রাকাত নয় পুরা জামাত মিস করা উম্মতদের জন্য কি চমৎকার করে বলেছেন দেখুনঃ

আবদুল্লাহ্ ইবনু মাসলামা ............ আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনরাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তি উত্তমরূপে অযু করার পর মসজিদে গিয়ে দেখতে পায় যে, নামাযের জামাত শেষ হয়ে গিয়েছে- মহান আল্লাহ্ ঐ ব্যক্তিকেও তাদের অনুরূপ সওয়াব প্রদান করবেন- যারা মসজিদে হাযির হয়ে জামাতের সাথে পুরা নামায আদায় করেছেন; তাতে জামাতে নামায আদায়কারীদের সওয়াব একটুও কম হবে না।
[বইঃ সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/ সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ৫৬৪. হাদিসের মানঃ সহিহ]

অন্য হাদিসে এসেছে,  
হজরত আবু কাতাদা (রা.) বর্ণনা করেন, একবার আমরা নবী(সা.)-এর সঙ্গে নামায পড়ছিলাম, নামাযরত অবস্থায় তিনি লোকের ছুটাছুটির শব্দ অনুভব করলেন। নামায শেষে জিজ্ঞেস করলেন তোমরা কি করছিলে? তাঁরা আরজ করলেন, ‘আমরা নামাযের (জামাত ধরার) জন্য তাড়াতাড়ি আসছিলাম’। আল্লাহর রাসূল(সা.) বললেন, এরূপ কখনো করো না। শান্তিশৃঙ্খলা ও ধীরস্থিরভাবে নামাযের জন্য আসবে, তাতে যে কয় রাকাত ইমামের সঙ্গে পাবে পড়ে নেবে, আর যা ছুটে যায় তা ইমামের নামাযের পর পুরা করে নেবে’। - (বুখারি শরীফ, খন্ড ১, হাদিস নম্বর-৩৮৭)

আল্লাহপাক আমাদের সঠিক জ্ঞান দান করুন এবং উত্তমরূপে আমল করার তৌফিক দিন, আমীন।

Jun 7, 2019

শাওয়াল মাসের ৬ রোযা

এ মাসের (এপ্রিল'২০২৫) ০৯ থেকে ১৪ তারিখ ৬টি রোযা রাখুন। তাতে আপনি ৩টি মরতবা হাসিল করবেন, ইনশাাল্লাহ। আল্লাহপাক চাহেন তো আপনাকে সবগুলোর সওয়াব একসাথে দান করবেন।  

১। শাওয়াল মাসের ৬টি রোযা আদায় হবেঃ

"রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 


مَنْ صَامَ رَمَضَانَ ثُمَّ أَتْبَعَهُ سِتًّا مِنْ شَوَّالٍ كَانَ كَصِيَامِ الدَّهْرِ
 
‘যে ব্যক্তি রমযান মাসে ফরয সিয়াম পালন করল, অতঃপর শাওয়াল মাসেও আরো ৬ দিন সওম পালন করল সে ব্যক্তি যেন সারা বছর ধরে রোযা রাখল।’’ [সহীহ মুসলিম : হা/১১৬৪]


প্রতি সপ্তাহের সোমবার ও বৃহস্পতিবারের দুইটি সুন্নাত রোযা আদায় হবেঃ

সোমবার ও বৃহস্পতিবার এই দুইদিন ‘কেরামান কাতেবীন’ অর্থাৎ, সম্মানিত আমল লেখক ফেরেশতারা আল্লাহর নিকট বান্দার আমল পেশ করেন। এই হাদীসটি আবু হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু আ’নহু থেকে বর্ণিত হয়েছে। রাসুলু্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
সোমবার ও বৃহস্পতিবার আল্লাহর নিকট বান্দার আমল পেশ করা হয়।। তাই আমি পছন্দ করি যে, রোযা থাকা অবস্থায় যেন আমার আমলনামা (আল্লাহর) কাছে পেশ করা হোক।” [সুনানে তিরমিযী হা/৭৪৭] শায়খ আলবানী রাহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন, [সহীহ আত-তারগীব হা/১০২৭]

 প্রতি আরবি মাসের আইয়ামে বীযের ৩টি রোযা আদায়ের সওয়াবও পাবেন, ইনশাআল্লাহঃ
"হযরত আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু আ’নহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার প্রিয় বন্ধু (রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে এমন তিনটি কাজের অসিয়ত করেছেন, যা আমি যতদিন বেঁচে থাকব, কখনোই ত্যাগ করব না। সেগুলো হচ্ছে, প্রতি মাসে তিনটি করে রোযা (আইয়ামে বীজ-এর তিন দিন) পালন করা, সালাতুদ দোহার নামায পড়া এবং বিতির না পড়ে ঘুমাতে না যাওয়া।” [সহীহ মুসলিম হা/৭২২, আবু দাউদ হা/১৪৩৩, আহমাদ হা/২৬৯৩৫]


আল্লাহপাক আমাদের নেক আমলের উসিলায় দুনিয়ায়, বরযক জীবন এবং আখিরাতে কল্যাণ দান করুন, আমীন।

Jun 2, 2019

মাজারে মাজারে ঘুরে শবে ক্বদর তালাশ

এতদিন মসজিদ খাঁ খাঁ করতেছিল, আজ আবার পরিপূর্ণ হবে। মানুষের ঢল নামবে।



আচ্ছা কোন হাদীসে কি বলা হয়েছে, আপনি রোযা সব রাখুন বা না রাখুন, সব ফরয নামায পড়ুন কিংবা না পড়ুন, ক্বদরের রাতে ইবাদত করলে, আপনি শবে ক্বদর পেয়ে যাবেন! আপনাকে মাফ করে দেওয়া হবে!


হাদীসে কী আছে দেখুনঃ
1/ "মূসা (রহঃ), আবূ সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবূ সায়ীদ খুদরী (রাঃ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললাম, আমাদের খেজুর বাগানে চলুন, (হাদীস সংক্রান্ত) আলাপ আলোচনা করব। তিনি বেরিয়ে আসলেন।

আবূ সালাম (রাঃ) বলেন, আমি তাকে বললাম, লাইলাতুল ক্বদর’ সম্পর্কে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা শুনেছেন, তা আমার কাছে বর্ণনা করুন।

তিনি{আবূ সায়ীদ খুদরী (রাঃ)} বললেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযানের প্রথম দশ দিন ই’তিকাফ করলেন। আমারও তাঁর সঙ্গে ই’তিকাফ করলাম। জিবরাঈল (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এসে বললেন, আপনি যা তালাশ করছেন, তা আপনার সামনে রয়েছে। এরপর তিনি মধ্যবর্তী দশ দিন ই’তিকাফ করলেন, আমরাও তাঁর সঙ্গে ই’তিকাফ করলাম। পুনরায় জিবরাঈল (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এসে বললেন, আপনি যা তালাশ করছেন, তা আপনার সামনে রয়েছে। এরপর রমযানের বিশ তারিখ সকালে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুতবা দিতে দাঁড়িয়ে বললেন, যারা আল্লাহর নবীর সঙ্গে ই’তিকাফ করেছেন, তারা যেন ফিরে আসেন (আবার ই’তিকাফ করেন) কেননা, আমাকে স্বপ্নে লাইলাতুল কদর’ অবগত করানো হয়েছে। তবে আমাকে তা (নির্ধারিত তারিখটি) ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। নিঃসন্দেহে তা শেষ দশ দিনের কোন এক বেজোড় তারিখে। স্বপ্নে দেখলাম যেন আমি কাদা ও পানির উপর সিজদা করছি।

তখন মসজিদের ছাদ খেজুরের ডাল দ্বারা নির্মিত ছিল। আমরা আকাশে কোন কিছুই (মেঘ) দেখিনি, এক খন্ড হালকা মেঘ আসল এবং আমাদের উপর (বৃষ্টি) বর্ষিত হল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন। এমন কি আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কপাল ও নাকের অগ্রভাগে পানি ও কাঁধার চিহ্ন দেখতে পেলাম। এভাবেই তাঁর স্বপ্ন সত্যে পরিণত হল।"
[হাদিসের মানঃ সহীহ, সহীহ বুখারী(ইফা), অধ্যায়ঃ ১০(আযান), হাদিস নাম্বারঃ ৭৭৬]





2/ "ইসমা‘ঈল (রহঃ), আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযানের মধ্যম দশকে ইতিকাফ করতেন। এক বছর এরূপ ইতিকাফ করেন, যখন একুশের রাত এল , যে রাতের সকালে তিনি তাঁর ইতিকাফ হতে বের হবেন, তিনি বললেনঃ যারা আমার সংগে ইতিকাফ করেছে তারা যেন শেষ দশক ইতিকাফ করে। আমাকে স্বপ্নে এই রাত (লাইলাতুল ক্বদর)দেখানো হয়েছিল। পরে আমাকে তা (সঠিক তারিখ)ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে। অবশ্য আমি স্বপ্নে দেখতে পেয়েছি যে , ঐ রাতের সকালে আমি কাদা-পানির মাঝে সিজদা করছি। তোমরা তা শেষ দশকে তালাশ কর এবং প্রত্যেক বেজোড় রাতে তালাশ কর। পরে এই রাতে আকাশ হতে বৃষ্টি বর্ষিত হল , মসজিদের ছাদ ছিল খেজুর পাতার ছাউনির। ফলে মসজিদে টপটপ করে বৃষ্টি পড়তে লাগল। একুশের রাতের সকালে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কপালে কাদা- পানির চিহ্ন আমার দু’চোখ দেখতে পায়।"
[হাদীসের মানঃ সহীহ, সহীহ বুখারি (ইফা), অধ্যায়ঃ ২৫(ই'তিকাফ), হাদিস নাম্বারঃ ১৯০০]

3/ "আলী ইবনুূু ‘আবদুল্লাহ (রহঃ), ‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত , তিনি বলেন , যখন রমযানের শেষ দশক আসত তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর লুঙ্গি কষে নিতেন (বেশী বেশী ইবাদতের প্রস্তুতি নিতেন) এবং রাত্রে জেগে থাকতেন ও পরিবার- পরিজনকে জাগিয়ে দিতেন।"
[হাদিসের মানঃ সহীহ, সহীহ বুখারি (ইফা), অধ্যায়ঃ ২৪ (তারাবীহর সালাত), হাদিস নাম্বারঃ ১৮৯৭]




4/ "ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ), আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কতিপয় সাহাবীকে স্বপ্নে দেখান হল যে, (রমযানের) শেষ সাত দিনের মধ্যে কদরের রাত রয়েছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি মনে করি যে, শেষের সাতদিন সম্পর্কে তোমাদের সকলের স্বপ্ন পরস্পর সামঞ্জস্যপূর্ণ। অতএব যে ব্যাক্তি তা অন্বেষণ করবে, সে যেন রমযানের শেষ সাতদিনের রাত গুলোতে তা অম্বেষণ করে।"
[হাদিসের মানঃ সহিহ,গ্রন্থঃ সহীহ মুসলিম(ইসলামিক ফাউন্ডেশন, অধ্যায়ঃ ১৪ সিয়াম (রোজা),হাদিস নাম্বারঃ ২৬৩২।]

জেনে রাখুন, শবে ক্বদর তাদের জন্যেই, যারা আল্লাহ্‌র সাথে কাউকে কোন প্রকার শরীক করে না, যারা পাঁচ ওয়াক্ত নামায সঠিকভাবে আদায় করে, যারা ফরয রোযা ত্যাগ করে না, হালাল-হারাম পরিপূর্ণভাবে মেইনেইন করে, মানুষের হক নষ্ট করে না।




আমরা হলাম মিঠা সুন্নি। এতেক্বাফ এবং রমযানের শেষ দশকের বেজোড় রাতসমূহে শবে ক্বদর তালাশের জন্য এতো অসংখ্য হাদীস থাকার পরও, আমরা ২৭ তারিখটা নির্দিষ্ট করে নিয়েছি। কেননা রাসুল(সাঃ)-এর শবে ক্বদর তালাশের পদ্ধতিটা(যেটা একমাত্র সঠিক পদ্ধতি) বাস্তবিক কঠিন। এবং এটাই যুক্তিযুক্ত। শবে ক্বদর নামক অতি বড় নেয়ামত এতো সহজে পাওয়াটাই তো অবৈজ্ঞানিক! রাসূল(সাঃ) বারবার বলেছেন, শবে ক্বদর উনাকে দেখিয়ে আবার ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে, আমাদের কাছে লুকিয়ে রাখা হয়েছে, তালাশ করে আমাদের খুঁজতে বলা হয়েছে। দুনিয়াতে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার জন্য আমরা কত কঠিন পরিশ্রমই না করি, তো আখিরাতের সাফল্যের জন্য এতো সহজ পথ আছে বলে, আমরা কিভাবে নির্বোধের মত ভাবতে পারি! ২৯ তারিখেও যে শবে ক্বদর হতে পারে তা কি আপনি বিশ্বাস করেন না! তাহলে তো রাসূল(সাঃ)-এর কথা মিথ্যা হয়ে যাবে(নাউজুবিল্লাহ)। অথচ ২৭ তারিখের পরেই আমরা নামায দোয়া একেবারে ছেড়ে দেই। আর কতগুলো নির্বোধ তো আছেই, শবে ক্বদর পালনের নামে মাজারে মাজারে ঘুরে শবে ক্বদর তালাশ করে।

বাট পরবর্তী ঈমামদের কিংবা আলেমদের ইজতেহাদ করে পাওয়া পদ্ধতি যে খুব সহজ। তো অতি সহজে বেহেশত পাওয়ার সহজ পদ্ধতি আমরা গ্রহণ না করে কি পারি!

May 7, 2019

নামাজ বর্জনকারীর বিধান

নামায মুসলমান এবং কাফেরদের মধ্যে পার্থক্যকারী।

আধুনিক কালে এমন অনেক মুসলিম রয়েছে, যারা সালাতের ব্যাপারে অমনোযোগী থাকে এবং তাকে বিনস্ট করে; এমনকি তাদের একটি অংশ অলসতা ও অবহেলা করে তা পুরোপুরি পরিত্যাগ করে। কিন্তু ইহা যে আমাদের উপর ফরয এবং তা আদায় না করলে পরিণামে ভয়ঙ্কর শাস্তি ভোগ করতে হবে। হাদিসের ভাষ্যমতে, হাশরের ময়দানে সর্বপ্রথম নামাযের হিসাব নেওয়া হবে।
     
পরিণামে কি ভয়ঙ্কর শাস্তি ভোগ করতে হবে, তা জানতে পড়ুন আল্লামা শায়খ মুহাম্মদ বিন সালেহ আল-উসাইমীন (রাহ.) এর খুবই মূল্যবান লেখা "নাময ত্যাগকারীর বিধান" বইটি।

বইটি যেকোন ইসলামী লাইব্রেরীতে পাওয়া যায়। আর যারা পিডিএফ এর ভক্ত তাদের জন্য নিচে ডাউনলিঙ্ক দেওয়া আছে। কিংবা ডাউনলিঙ্ক লেখাতে ক্লিক করুন।


                                                         >>> নামাজ পরিত্যাগকারীর বিধান <<<


Jun 8, 2018

হে নারী

নাটক-সিনেমাতে,
নারী অপহরণ খুব চমৎকার করে ফুটিয়ে তোলা হয়।
ডেয়ারিং ভাবে, অভিনব উপায়ে নারীকে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
আর ভয়ংকর উত্তেজিত ভাবে ধর্ষণ কিংবা ধর্ষণ চেষ্টার দৃশ্য চিত্রায়িত করা হয়।



নায়ক যেভাবে নারীটাকে বাঁচানোর জন্য মাটি ফুঁড়ে কিংবা বিশ তলা থেকে উড়ে আসে, একমাত্র সুপারম্যান বা স্পাইডারম্যান-এর দ্বারাই সেই কাজ সম্ভব।

বাস্তবে কোন সুপারম্যান বা স্পাইডারম্যান নেই।
তাই নারীদের কেউই বাঁচাতে আসে না।
তারা বাঁচতে পারে না।



বাস্তবে সব জায়গায় ধর্ষকের ছড়াছড়ি।
কেউ শিখার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে, আর কেউ করার জন্য।

তাই,
নারীরা শুধু ধর্ষিত হয়, হচ্ছে আর হবে।

বিশেষ ডায়লগঃ
‘ছেড়ে দে শয়তান! আমার দেহ পাবি, মন পাবি না’



ভাবি, ভাবি, শুধুই ভাবি ...
শয়তান তো দেহটাই চায়, মন দিয়ে কি করবে।
এইসব বস্তা পঁচা সিনেমা কি ধর্ষণকে আরো উৎসাহিত করছে না?

এইসব কুরুচিপূর্ণ দৃশ্য দেখে,
দর্শকরা আনন্দ পায়, হাততালি দেয় আর হাসে।
ধর্ষকরাও আনন্দ পায়, শিখে আর হাসে।

আর
অসহায় নারীরা ফাঁসে। 

Featured Post

কুরবানিঃ ঘরে ঘরে আমিষের ভান্ডার।

  ইসলামের কি মহান সৌন্দর্য্য! আজ ধনী-গরীব নির্বিশেষে সবার ঘরে ঘরে গোশত আর আমিষের উপচে পড়া ভান্ডার। কুরবানির এই একটি দিন পৃথিবীর সব হিসাব-নিক...