Feb 2, 2018

হে আমার প্রিয় বোন

একজন ছেলে...


  • সর্বদা সাজগোজ করে চলতেছে।
  • পুরুষদের(!) জন্য যত ধরণের প্রসাধনী বের হয়েছে, সবই ব্যবহার করতেছে।
  • লেটেস্ট ফ্যাশনে -এ চলাফেরা করতেছে।
  • ঘন ঘন সেভ করতেছে।
  • কবি হবার চেষ্টা করতেছে।
  • চলনে-বলনে স্মার্টনেস দেখাচ্ছে।

তখন বুঝতে হবে, সে কোন মেয়েকে পটানোর চেষ্টা করতেছে। আর সে যদি প্রথম এসাইনমেন্টে সফল হয়...


  • ওই মেয়েটার সাথে সবসময় দেখা করবে।
  • এখানে-ওখানে বেড়াতে নিয়ে যাবে।
  • দামী দামী রেস্টুরেন্টে খাওয়াবে।
  • নাটক-সিনেমা দেখাবে।
  • মেলা কিংবা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নিয়ে যাবে।
  • বিভিন্ন উৎসব-পার্বণে মূল্যবান উপহার পাঠাবে।


আচ্ছা এবার ভাবুন তো, এতো সব খরচ- এতো আয়োজন, কী উদ্দেশ্য !


  • নির্মল বন্ধুত্ব !
  • অকৃত্রিম ভালবাসা!!
  • জীবন-সাথী নির্বাচন !!!

৫% ছেলের মনে হয়তো সৎ উদ্দেশ্য থাকে, কিন্তু বাকী ৯৫% !

নির্মম সত্য বলতে কি---

  • এদের সবার উদ্দেশ্য ফুর্তি করা।
  • মেয়েদের দেহ ভোগ করা।
  • জীবনটাকে উপভোগ করা।

কিছু মেয়ে আছে যারা সেই একই নোংরা উদ্দেশ্য নিয়ে ছেলেদের দিকে এগিয়ে যায়। কিন্তু বাকীরা ! ফাঁদে পড়ে। অথচ এই অনৈতিক সম্পর্ক মেয়েদেরই বেশি ক্ষতি করে। আমরা ভবিষ্যৎ জানি না। জানি না কার সাথে কার বিয়ে হবে। তাহলে কিভাবে আমরা অন্যের  স্বামী  বা  স্ত্রীর(ভবিষ্যতে হবে) সাথে ফষ্টিনষ্টি করি?


  • আমরা কি আল্লাহকে ভয় করি না !
  • ভয় কি করি না সেই কঠিন, কষ্টকর, কবর আযাবের !!
  • বিশ্বাস কি করি না, সেই ভয়ংকর প্রজ্বলিত দোজখের আগুন !!!
  • সেই পরকালীন অনন্তকালের ভয়াবহ শাস্তির কথা কি হৃদয়ে কাঁপন ধরায় না !!!!

হে আল্লাহ্‌ ! আমাদের বিবেকের দুয়ার খুলে দাও।

Jan 5, 2018

কসাই অতঃপর ভাগ্নের কাছে নাস্তানাবুদ

মেজকে আনতে চিটাগাং এয়ারপোর্টে গিয়েছিলাম। মোবাইলে ব্যালেন্স ছিল না, তাই রিচার্জ কর্নারে গেলাম। ওরা বলল, যাই রিচার্জ করবেন, দশ টাকা বেশি লাগবে। আমি টাস্কিত, ভূলে গিয়েছিলাম এটা মগের মুল্লুক না হাসিনার মুল্লুক। আরে ব্যাটা, ৫০ টাকার নিচে রিচার্জ করলে সবাই ১ টাকা বেশি নেয়, তোরা ২ টাকা বেশি নে, নাহয় ৩ টাকা নে। তাই বলে ৫ টাকা, ৮ টাকা নয়- একেবারে ১০ টাকা!  😕




আরে কসাই! বিদেশ থেকে যারা আসে, যদি জান্‌তি ওরা কিভাবে, কত পরিশ্রম করে দেশে রেমিটেন্স পাঠায়, ঠুক্‌ করে স্যালুট দিতি আর ২ টাকা কম রাখ্‌তি।

দেশের অন্য স্থানে যে জিনিস ২০ টাকা, এখানের দোকানগুলোতে সেটা নেয় ৬০ টাকা। আর উপরে(যেখান থেকে বিমান দেখা যায়) নেয় ১২০ টাকা। এখানে যারা আসে সবাই দুবাইওয়ালা কিংবা তাদের ১৪ গোষ্ঠী, তাই ওরা ধরে ধরে জবাই করা হালাল মনে করে।



তো সাথে ছিল, আমার সেই ভাগ্নে। ইবলিশটা বায়না ধরলো মেজমামাকে দেখবে। তারে যতই বুঝায়, তোমার মেজমামা আসতে আরো আধঘন্টা দেরী আপাততঃ বড়মামাকে দেখ! সে বলে, মেজমামাকে দেখবে। আমি বলি, এয়ারপোর্ট দেখ; সে নাছোড়বান্দা, অন্য কিছুই দেখবে না, খালি মেজমামাকেই দেখবে। তো অনেক গড়িমসি করে রাজী হলো, যে বিমানে মেজমামা আসবে, সেটা দেখবে। কী আর করি, উপরে নিয়ে গেলাম। ভাগ্যের লিখন, তখন একটা বিমান টেক-অফ করতেছিল। সে তা দেখে কোথায় যে উল্লসিত হবে তা না, কান্না জুড়ে দিল আর জাপানী ভাষায় চিৎকার করতে করতে আমাকে থাপড়াতে লাগল। অনেক কষ্টে বুঝিয়ে শুনিয়ে কান্না থামালাম আর কারণ জিজ্ঞাতে বলল, ‘মেজমামা তো ঊড়াল দিয়ে চলে গেল’! তাকে বুঝালাম, তোমার মেজমামা তো বিদেশ থেকে আসবে, এই বিমানে তো... ওই পিচ্চিগুলো দেখছ না, ওদের মামা চলে গেছে যে, তোমার মামা না।



আমার কথা কানে গেছে কিনা জানি না, সে দেখি একটা স্টলের দিকে তাকিয়ে আছে। তারপর বায়না ধরল, ‘মামা, মামা... ওই ছোট্ট গাড়িটা দেখছ না, ওটা নেব।’ আমি বললাম, ‘আরে তুমি এই গাড়ি নেবে কেন, তোমার জন্য মেজমামা বিদেশ থেকে কত সুন্দর সুন্দর খেলনা আনবে!’ সে বলে কি, মেজমামার খেলনা নেবে না, এই খেলনা গাড়িটাই নেবে। আমি কসাইদের হাত থেকে বাঁচার জন্য বললাম, ‘দূর ওটা তো অনেক ছোট, তোমাকে ওই বড় মার্কেটে নিয়ে গিয়ে অনেক বড় বড় খেলনা গাড়ি কিনে দেব’। ভাগ্নে কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল, ‘আমি বড় গাড়ি নেব না, ওই ছোট গাড়িটা নেব।’



আমি বেকায়দায় পড়ে বললাম, ‘আরে দেখ না, ওটা তো কালো, ওই বড় মার্কেটে লাল, হলুদ, নীল, সোনালী কত সুন্দর সুন্দর গাড়ি আছে, সেখান থেকে কিনে দেব।’ সে বলে কি, বলে ‘আমি কালো গাড়িটাই নেব।’ আমার অবস্থা তো বারোটা বাজার সময় হল। তাকে আবার বুঝানোর চেষ্টা করলাম, ‘আরে মামা, দেখ না... এটা হল পঁচা, তুমি একজন গুডবয়, তুমি পঁচা খেলনা নেবে কেন? তুমি যেমন গ্রেট তাই গাড়িও নেবে গ্রেট, কেমন!’

এবার ভাগ্নে দেখি অনেক্ষণ চুপ করে আছে। এদিক-ওদিক তাকাচ্ছে, তার মত পিচ্চিদের সাথে খেলতেছে। আমি মনে মনে শুকরিয়া আদায় করলাম, যাক বাঁচা গেল মনে হয়। অনেক্ষণ পর সে আমাকে খুঁজতে লাগলো, খুঁজে পেয়ে আমার কোলে ওঠে কান্না কান্না স্বরে বলতে লাগলো, ‘মামা, মামা, আমি ওই পঁচা গাড়িটা নেব!’

আমি বলি কি, ‘মামারে তুই কাঁদস কেন, যা তুই গাড়ি নে, আমিই কাঁদি।

*****************************************************

Dec 8, 2017

শিশুর মায়াজাল

অনেক লোক এখন ঝামেলা মনে করা সন্তান নিতে চায় না, আগে ভাগেই জন্মনিয়ন্ত্রণ করে। সন্তান আসার পরও অনেকে গর্ভপাত করে সন্তান নষ্ট করে। অনেকে অভাবের তাড়নায় খাওয়াতে পারবে না মনে করে অধিক সন্তান নেয় না কিংবা বর্তমান আধুনিকতার মায়াজালে ও পাশ্চাত্য সংস্কৃতির প্রচারে বিভ্রান্ত হয়। তারা একবারও ভাবে না, সন্তান দেবার মালিক যেমন আল্লাহ্‌ তেমনি তার রিযিকের ব্যবস্থাকারীও মহান আল্লাহ্‌। তারা একবারও ভাবে না এই সন্তান তাদের ইহকাল-পরকাল দু'জাহানের মুক্তির কারণ হতে পারে। এখানে উল্লেখ্য যে, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার বাবা-মায়ের ১৩ তম সন্তান ছিলেন।




আমার দুই বছরের ভাগ্নে চিপস খাওয়ার পাগল। যদিও এই ভেজালের যুগে বাজারের চিল্ড্রেন ফুডগুলো কিনতে ভয় লাগে, তারপরও বাচ্চার আব্দার রাখতে মাঝে মাঝে কিনে দেই। সেদিন যখন আমাদের বাসায় এলো, একটা মেরিডিয়ান চিপস কিনে দিলাম। খাওয়ার সুবিধার্থে একটা বাটিতে ঢেলে দিলাম। এইরকম খাওয়ার সময় 'মামাকে একটা দাও' বললে সে চিপস তোলে ছোট্ট হাত দিয়ে মুখে ঢুকিয়ে দেয়। কি করে ট্রাই করার জন্য এবার যখন ও সব খেয়ে শেষ করে ফেলল, তখন বললাম, 'মামাকে একটা দাও'। ভেবেছিলাম সে হাত নেড়ে নাই বলবে। কিন্তু কি করলো জানেন! সে মুখে যে পেস্টটুকু অবশেষ ছিল তা হাত দিয়ে বের করে আমার মুখে দিল। এই অবুঝ শিশুটার ভালোবাসা দেখে আমার মনটা আনচান করে উঠল। চোখে জল এসে গেল।

একটা দুই বছরের বাচ্চা আমাকে বুঝাল, মায়া কাকে বলে! আমাকে শিখাল, ভালোবাসা কী! চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখাল, রক্তের বন্ধন কি রকম হতে পারে!

ওহে মা ও বাবারা, যারা নিজেরা নিজেদের সন্তানকে পৃথিবীতে আসতে দিচ্ছেন না বা হত্যা করতেছেন, চিন্তা করুন একটা বাচ্চা যদি তার মামার জন্য এতো ভালোবাসা লুকিয়ে রাখে, সে মা-বাবার জন্য কি জমিয়ে রেখেছে!

নিজেদের বাচ্চাকে হত্যা করার  আগে একবার ভেবে দেখুন! প্লিজ ?

প্রিয় ভাই ও বোনেরা, যাদের বাচ্চা আছে তাদের জন্য একটা চমৎকার ই-বুক উপহার দিলাম ... 

ইচ্ছে হলে ডাউনলোড করে নিতে পারেন। সংগ্রহে রাখার মতো একটি মূল্যবান বই ... ...
                                     
                                          "সন্তান-প্রতিপালন

Nov 10, 2017

নারীর অধিকার কিংবা সমাধিকার

নারীবাদী আর নাস্তিকরা নারীর অধিকার কিংবা সমাধিকার নিয়ে যতোই চিল্লাফাল্লা করুক, মোহরানা নিয়ে কোন উচ্চবাচ্য করে না। কেন? সেটা শুধু ইসলামী আইনের অন্তর্ভুক্ত বলেই কি? অথচ এই একটি অধিকার রক্ষার্থে যদি আন্দোলন হতো, তাহলে নারীরা নিঃসন্দেহে উত্তম নিরাপত্তা আর মর্যাদার অধিকারী হতো।




এবার একটা উল্টো প্রশ্ন করি ...
আচ্ছা নারীবাদী আর নাস্তিকরা দেনমোহর তোলে দেবার জন্য কোন হাউ-কাউ করে না কেন? কিংবা নারীকেও দেনমোহর দিতে হবে, এই দাবী করে না কেন?

কেননা সমাধিকারের যুক্তিতে বলা যায় ...

  • বিয়ে যেমন পুরুষ করে, নারীও করে।
  • সংসারটা যেমন পুরুষের, তেমনি নারীরও।
  • পুরুষ যেমন যৌনচাহিদা মেটায়, নারীও মেটায়।
  • সন্তানগুলো যেমন পুরুষের, তেমনি নারীরও।

এইভাবে এক একটি পয়েন্ট নিয়ে জারজগুলাকে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিন।

Oct 7, 2017

পবিত্রতার প্রথম শর্ত

অনেককেই দেখা যায় গোসল করে আবার ওযু করে। অনেকেই গোসলের নিয়তও করে না। এখন নিয়ত না করলে আপনি যদি ১০০ বারও ফরয গোসল করেন আপনি অপবিত্রই রয়ে যাবেন। আপনার নামায দোয়া কিছুই হবে না। এমনকি যদি মৃত্যু এসে যায়, আপনার মৃত্যু হবে নাপাক অবস্থায়।

যে সব কারণে গোসল ফরজ হয়ঃ
১. সহবাস করলে। স্বামী-স্ত্রীর মিলন হলে বীর্যপাত হোক বা না হোক।
২. স্বপ্নদোষ হলে। স্বপ্নের কথা স্মরণ থাকুক বা না থাকুক শরীরে, কাপড়ে বা বিছানায় বীর্যের চিহ্ন দেখতে পেলে।
৩. মহিলাদের মাসিক ঋতুস্রাব (হায়েয) বন্ধ হলে।
৪. নেফাস (সন্তান প্রসবের পার যে রক্তস্রাব হয়) বন্ধ হলে।
৫. স্ত্রী-পুরুষ কারও উত্তেজনার সাথে বীর্য বের হলে।
৬. কোন অমুসলিম ইসলাম গ্রহণ করলে।

তখন ফরয গোসল ছাড়া নামাজ হবে না।


গোসলের নিয়তঃ 
"নাওয়াইতুল গোছলা লিরাফয়ি'ল্ জানাবাতে।" অর্থাৎ ''আমি নাপাকি দূর করবার জন্য গোসল করতেছি।''

ওযুর নিয়ম


মুখে আরবি নিয়ত করতে হবে তা কিন্তু জরুরী নয়। এভাবে উচ্চারণ করা অধিকাংশ আলেমই বিদ'আত বলেন। সুতরাং বাংলাতে মনে মনে বলুনঃ


  • 'হে আল্লাহ, আমি নাপাক থেকে পবিত্র হবার জন্য গোসলের নিয়ত করছি'। (অনেক আলেমের মতে, আপনি ঘর থেকে ফরয গোসলের সংকল্প করে বের হলেই নিয়ত হয়ে যায়। আল্লাহ আলাম।)
  • এখন প্রথমে দুই হাত কব্জি পর্যন্ত ৩ বার ধুতে হবে।
  • এরপর ডানহাতে পানি নিয়ে বামহাত দিয়ে লজ্জাস্থান এবং তার আশপাশ ভালো করে ধুতে হবে। শরীরের অন্য কোন জায়গায় বীর্য বা নাপাকি লেগে থাকলে সেটাও ধুতে হবে।
  • তারপর যেভাবে ওযু করেন সেভাবে ওযু করুন, শুধু পা ধুবেন না। ওযুতে গোসলের ফরয, সুন্নত, মুস্তাহাব সবই আছে। 
  • তারপর এমনভাবে তিনবার শরীরে পানি ঢালবেন কিংবা ডুব দেবেন যে, যেন একটা পশমও শুকনা না থাকে। 
  • তারপর শুওকনো জায়গায় ওঠে সবশেষে পা ধুবেন। 


এবার আপনি নামাজ, কালাম সবই করতে পারবেন।

হে আল্লাহ, আমাদের সঠিক জ্ঞান অর্জন ও আমল করার তওফিক দাও, আমীন।

Featured Post

কুরবানিঃ ঘরে ঘরে আমিষের ভান্ডার।

  ইসলামের কি মহান সৌন্দর্য্য! আজ ধনী-গরীব নির্বিশেষে সবার ঘরে ঘরে গোশত আর আমিষের উপচে পড়া ভান্ডার। কুরবানির এই একটি দিন পৃথিবীর সব হিসাব-নিক...